হারের পাঁকে বাংলাদেশ: রানা-রাব্বির চেষ্টা বৃথা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

টসের আগে উইকেট দেখে দুই ধারাভাষ্যকার এড রেইন্সফোর্ড ও আতহার আলী জানান, বুলাওয়ের এই পিচে আগে ব্যাট করা দল ১৮০ রান করলে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারবে। টস জিতে আগে ব্যাট করার সুযোগ নেয়নি বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায়। তবে ১৮০ করতে না পারলেও কাছাকাছি যায় স্বাগতিকরা। সফরকারীদের ১৭১ রানের লক্ষ্য দেয়। এই চ্যালেঞ্জ টপকাতে নেমে ৩২ রানের হারে বাংলাদেশ দল। এতে একমাত্র টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হার দিয়ে শুরু হলো তাদের। কাজে এলো না নাহিদ রানার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ও ব্যাট হাতে ইয়াসির আলী রাব্বির ফিফটি।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৩৪ রানে টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটারকে হারায় সফরকারীরা। সাইফ হাসান ১২, তানজিদ হাসান ১৬ ও পারভেজ হোসেন ৫ রানে আউট হন। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ১৪ রানে সাজঘরে ফিরে দলের চাপ আরও বাড়িয়ে যান তিনি। পরের ওভারে নুরুল হাসান সোহান থামেন ৩ রান করে। ১১তম ওভারে ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন পরাজয়ের প্রহর গুনছিল বাংলাদেশ দল। সে সময় হাল ধরেন রাব্বি। প্রায় ৩ বছর পর জাতীয় দলে ফিরে শেখ মেহেদী হাসানের সঙ্গে ৫২ রানের জুটি গড়েন।

মেহেদী ১৯ রানে আউট হলে ফিফটি করে প্রত্যাবর্তন রাঙান রাব্বি। তবে এই মিডল অর্ডার ব্যাটার ৩৮ বলে ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরার সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের শেষ আশাটুকুও সঙ্গে করে নিয়ে যান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। ১ রানে থামেন। পরে স্বাগতিকরা অলআউট হয় ১৩৮ রানে। এতে ৩২ রানে হারে সিরিজ শুরু হলো বাংলাদেশের।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় জিম্বাবুয়ে। মাত্র ৩ ওভার ৩ বলে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান তোলেন ব্রায়ান বেনেট ও টাডিওয়ানাশে মারুমানি। চতুর্থ ওভারে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। ১৪ রান করা মারুমানিকে ফেরান এই গতি তারকা। ওই ১ উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৫৪ রান করে স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ডিওন মেয়ার্সকে (২০) সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বেনেট। তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৮ রানের এই পার্টনারশিপকে বড় হতে দেননি। অন্য প্রান্তে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে অর্ধশতকের দিকে ছোটেন বেনেট। আবার বল হাতে নিয়ে তাকে থামান নাহিদ। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩০ বলে ৪৪ রানে আউট হন বেনেট।

এরপর রায়ান বার্ল ছাড়া জিম্বাবুয়ের আর কোনো ব্যাটার থিতু হতে পারেননি। রাজা ২০ রান করে ফিরলে নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন নাহিদ। মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিয়াকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন। হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে নিজের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেন নাহিদ। শেষ ওভারে ১৮ রান খরচ করলেও মাত্র ২৬ রানে ৪ উইকেট নেন এই ডানহাতি গতি তারকা। টি-টোয়েন্টিতে এটাই তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। শেষ দিকে বার্লের ২৫ বলে ৩০ রানের সঙ্গে ব্র্যাড ইভান্সের ১০ বলে ১৯ রানের ইনিংসের সৌজন্যে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে, যা টপকাতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত