যুক্তরাষ্ট্র গতকাল শুক্রবার ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায়ও আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি বলেছে, তারা সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন রাডার স্থাপনা এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে এ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর জানিয়েছে আল-জাজিরা।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংঘাত নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে। টানা ছয় দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েক ডজন সামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তেহরানের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলা। ইরান গতকাল ভোরে তাদের একটি বিমানবন্দর, একটি রেলস্টেশন এবং দুটি সেতুতে হামলা হয়েছে বলে খবর দেয়। এসব হামলায় কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরের কাছে বামপুরে সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সাত ইরানি সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে তাদের এরোস্পেস ফোর্স (মহাকাশ বাহিনী) অভিযান চালিয়েছে। এতে একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। এতে অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধারা এখনো হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ তার উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।’
বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও জানায়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং অন্তত এই ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।
আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উদ্ধৃতিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র বলেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছিÑ যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামোই ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।’
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত বন্ধে এক মাস আগে প্রাথমিক সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতা সত্ত্বেও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন বৈশ্বিক তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার দাবি করছে ইরান।