কিছুটা হলেও কি দায়মুক্ত হলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন! ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার বাংলাদেশের এই মিডিয়াম পেসারের বলে টানা ৫টি ছক্কা হাঁকান। সে ঘটনা তাকে এতটাই ব্যথিত করে যে, একদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে বিরক্তি প্রকাশ করে সে প্রসঙ্গ না তোলার অনুরোধ করেন তিনি। প্রায় ১১ বছর পর গতকাল বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্র্যাড ইভান্সকে টানা ৪টি ছক্কা মারেন সাইফউদ্দিন। এতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট ওভারে চারটি ছয় হাঁকানোর রেকর্ড গড়েন তিনি। ওই ওভারে সব মিলিয়ে ২৮ রান নেন, যা এক ওভারে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের নেওয়া সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও। তার এমন রেকর্ডগড়া ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ৩৪ রানে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে সফরকারীরা।
ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংসের পর বোলিংয়ে ১ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়া সাইফউদ্দিন বলেন, ‘অনেক দিন পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেলাম। তাই আমি খুবই আনন্দিত। একই সঙ্গে সিরিজে আমরা ১-১ সমতায় ফিরেছি বলে ভালো লাগছে।’
গতকাল টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটির সঙ্গে সাইফউদ্দিনের এমন ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ৫ উইকেটে ১৮৬ রান তোলে সফরকারীরা। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ১৫২ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। এতে আগামীকাল সিরিজের শেষ ম্যাচটি অলিখিত ফাইনালে রূপ নিয়েছে। ম্যাচ জয়ের পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের কণ্ঠে ব্যাটারদের প্রশংসা ঝরল, ‘একটি দলীয় প্রচেষ্টার জয়। আমরা ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই খুব ভালো করেছি। ব্যাটাররা নিজেদের দায়িত্ব নিয়েছে। আমরা সব সময় জুটি গড়ার কথা বলি, আজ (গতকাল) শুরুতেই আমরা দারুণ একটি জুটি পেয়েছি।’ পরে একাদশে ফেরা লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ৪টি ও অফ স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান ৩ উইকেট নিয়ে জয়ের কাজ সহজ করে দেন। তাদেরও কৃতিত্ব দিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘উইকেট বিবেচনায় আমাদের বোলাররাও দারুণ করেছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল আঁটসাঁট লাইন ও লেংথে ধরে বল করা, তারা সেটি খুব ভালোভাবে বাস্তবায়ন করেছে।’
শুরুর ছন্দটা ব্যাটাররাই তৈরি করে দেন। তামিম-সাইফের উদ্বোধনী জুটিতে ১২০ রান তোলে বাংলাদেশ। যা তাদের ওপেনিং জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। তবে ভাগ্য সহায় ছিল দুজনেরই। সাইফ একাই ৫ বার জীবন পান। তবু নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি তিনি। ফিফটি পূর্ণ করলেও ৪৫ বলে ৫৫ রানে আউট হন সাইফ। ওপেনিং জুটি ভাঙলে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগে ধস নামে। ২১ রানের মধ্যে হারায় ৫ উইকেট। ফিফটি করার পর তামিমও ইনিংসটাকে বেশি বড় করতে পারেননি। থামেন ৪৪ বলে ৫৮ রানে। এরপর ফেরেন হৃদয় (৬), পারভেজ হোসেন (১) ও নুরুল হাসান (৪)। তবে প্রথম টি-টোয়েন্টির মতো আজও হাল ধরেন ইয়াসির আলী রাব্বি। শেষ দিকে তার ১২ বলে ২২ রানের ঝোড়ো ইনিংসের সঙ্গে সাইফউদ্দিনের তাণ্ডবে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
জবাব দিতে নেমে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারে ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) আউট করেন মেহেদী। দ্বিতীয় ওভারে আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে (১১) থামান নাহিদ রানা। তৃতীয় ওভারে মেহেদীর দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ডিওন মেয়ার্স (৪)। ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। মিল্টন শুম্বা ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজার জুটি থেকে আসে ৪৪ রান। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তাণ্ডব চালানো রাজাকে (১২ বলে ২৮) আউট করে এই জুটি ভাঙেন রিশাদ। এরপর আবারও ধস নামে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং বিভাগে। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারেননি শুম্বা (১৯) ও ক্লাইভ মাডান্ডে (১)। যদিও চেষ্টা করেছিলেন রায়ান বার্ল। তবে পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কাজে আসেনি তার ১৯ বলে ২৯ ও ইভান্সের ১৪ বলে ২৫ রানের ইনিংসটি।
তবে শঙ্কা বাড়াচ্ছে নাহিদের চোট। নিজের তৃতীয় ওভার বল করতে এসে একটি গতিময় থ্রো এড়াতে হুট করে বসে পড়তে গিয়ে কোনোভাবে চোট পান এই গতিতারকা। এরপর ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়লেও আর ফেরেননি তিনি। যদিও ম্যাচ শেষে তাওহীদ বলেন, ‘আশা করছি, সে ভালো আছে।’