সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের চেংগাইয়া খেয়াঘাট থেকে কৃষ্ণনগর, হিম্মতের গাঁওসহ বিভিন্ন গ্রামে যাতায়াতের পথে ৭০০ ফুট দীর্ঘ কাঁচা সড়ক অযতœ অবহেলায় পড়ে আছে। বছরের পর বছর পাকাকরণ না হওয়ায় এ সড়কটি এখন স্থানীয়দের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হদ্দুছ মিয়া বলেন, প্রতিদিন গ্রামীণ এ সড়ক দিয়ে ১০ থেকে ১৫ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করেন। এসব গ্রাম থেকে দোয়ারাবাজার উপজেলায় ও জেলা শহরে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামসুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা ভোটের প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। বহু বছর ধরে এই ৭০০ ফুট রাস্তা পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো উন্নয়ন হয়নি। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। কাদামাটির কারণে অনেক সময় রোগীকে খাটিয়া বা ভ্যানে করে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। লিখিতভাবে জানানো হলে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’