রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান দুই ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদধারী চারজনের কেউই এখন আর নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। এ ছাড়া বাকি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও অনেকেই নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়। সংগঠন করার জন্য তারা কেউ এমফিল, সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স, কেউ ভাষা শিক্ষা বা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কোর্সে ভর্তি হয়ে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। এ সব কোর্সের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বে এমন একাধিক নেতা রয়েছেন, যাদের মধ্যে কেউ কয়েক বছর, আবার কেউ এক দশকেরও বেশি আগে নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন। অথচ দুই সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নীতিমালায় নেতৃত্ব ও সদস্যপদের ক্ষেত্রে নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গত বছর ১৬ আগস্ট রাবি ছাত্রদলের ১১৩ সদস্যবিশিষ্ট ‘আংশিক পূর্ণাঙ্গ’ কমিটি প্রকাশ করা হয়। কমিটিতে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের সুলতান আহমেদ রাহীকে সভাপতি, সংগীত বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের সরদার জহুরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ), সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান (ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ), সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ, ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ) ও মাহমুদুল ইসলাম মিঠুকে (ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। কিন্তু বর্তমানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন বলে জানা গেছে। কিন্তু ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাগরিক ও অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীরাই কেবল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
অন্যদিকে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাবি ছাত্রশিবিরের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মুজাহিদ ফয়সালকে সভাপতি ও আরবি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসানকে সেক্রেটারি করা হয়। দুজনের কেউ বর্তমানে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী নন। অথচ ছাত্রশিবিরের গঠনতন্ত্রে বলা আছে, ‘কোনো সদস্যের ছাত্রজীবন সমাপ্ত হলে তার পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সভাপতির অনুমোদনক্রমে তার সদস্যপদের পরিসমাপ্তি ঘটবে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক শাখা-১-এর উপ-রেজিস্ট্রার এ এইচ এম আসলাম হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৯টি বিভাগ ও দুটি ইনস্টিটিউটের অনার্স এবং নিয়মিত মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাই নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে স্বীকৃত। সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স বা ভাষা শিক্ষা কোর্সের শিক্ষার্থীরা আবাসিক হল, পরিবহন, চিকিৎসাসেবা ও সমাবর্তনসহ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন না। তাই তাদের নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
নিয়মিত শিক্ষার্থী না হয়েও সভাপতির পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমদ রাহী বলেন, শিবিরের সভাপতি যেভাবে কমিটিতে আছেন আমিও সেভাবেই আছি। আমি এমফিল-এ ভর্তির জন্য আবেদন করেছি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সরদার জহুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংগঠনের অন্য নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইংলিশ অ্যান্ড আদার ল্যাঙ্গুয়েজ-এর ভাষা শিক্ষাবিষয়ক শর্ট কোর্সে অধ্যয়নরত।
নিজের ছাত্রত্বের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি বলেন, ‘আমার রাবিতে মাস্টার্স ২০২৩ সালে শেষ হয়েছে। বর্তমানে আমি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়ছি।’ রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।