জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জয়ের ভিতটা বোলাররাই গড়ে দেন। দুই ধারাভাষ্যকার টিনো মাওয়োয়ো ও আতহার আলী টসের আগে উইকেট দেখে জানান, এ ম্যাচে আগে ব্যাট করা দল ২০০ রান করতে পারে। উইকেটে থিতু হলে ব্যাটারদের জন্য রান করা সহজ হবে। কিন্তু তাসকিন আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসানরা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে দেড় শ ছাড়াতে দেননি। মাত্র ১৪৩ রানে বেঁধে ফেলেন। 

পরে তুলনামূলক ছোট লক্ষ্য তাড়ায় যেমন দাপুটে জয় পাওয়ার কথা ছিল, সেটা আদায় করে নিতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। শেষ ওভারে গড়ানো নাটকীয় ম্যাচে ৪ উইকেট ও ২ বল হাতে রেখে জিতেছে সফরকারীরা। তবে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সফরের শুরুটা ভালো না হলেও জয় দিয়ে রাঙিয়ে এবার দেশের বিমান ধরবেন তাওহীদ হৃদয়রা।

গোটা সফরেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি ব্যাটাররা। এজন্য একমাত্র টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও হারে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটাও হার দিয়ে হয়। তবে টানা দুই ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। আজ বুলাওয়েতে রান তাড়ায় নেমে অবশ্য সুবিধা করতে পারেনি, ইনিংসের প্রথম ওভারে ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন ওপেনার সাইফ হাসান। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে চাপের মুখে রান বের করতে পারছিলেন না তারা। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে আর কোনো উইকেট না হারালেও মাত্র ৩০ রান তোলে বাংলাদেশ। এরপর অবশ্য রান তোলার গতি কিছুটা বাড়ান দুজন।

তবে থিতু হতে পারেননি ইমন। ২৪ রানে আউট হন তিনি। ভাঙে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৫ রানের জুটি। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হৃদয়কে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তামিম। কিন্তু শেষ করে আসতে পারেননি হৃদয়। তিনিও ২৪ রানে থামলে ভাঙে ৬৩ রানের জুটি। এর আগেই অবশ্য এই সফরে নিজের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন তামিম। পরে ইয়াসির আলী রাব্বিও ১০ রান করে আউট হন। শেষ ওভারে ৫ রান প্রয়োজন পড়লে প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন তামিম। এরপর দুই বলে ফিরে যান মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচে। তবে ভুল করেননি মেহেদী। চার মেরে ম্যাচ জেতান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম।

এর আগে স্বাগতিকদের ব্যাটারদের কাজটা কঠিন করে তোলেন সফরকারী বোলাররা। ডিওন মেয়ার্সের ফিফটির পরও তাসকিন আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের পুঁজি পায় জিম্বাবুয়ে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার টাডিওয়ানাশে মারুমানিকে (৪) আউট করেন মেহেদী। তার আগে ফিরতে পারতেন বেনেট। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারে শূন্য রানে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তিনি। সুযোগ পেয়ে দ্বিতীয় উইকেটে মায়ার্সের সঙ্গে ৭১ রানের জুটিতে ব্যক্তিগত ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন এই ওপেনার। তাঁকে থামান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সঙ্গে ৩০ রানের জুটির মাঝে ফিফটি পূর্ণ করেন মায়ার্স। তবে সুবিধা করতে পারেননি রাজা। মাত্র ৩ রান করে রিশাদ হোসেনের শিকারে পরিণত হন তিনি। রায়ান বার্লও (৭) দায়িত্ব নিতে পারেননি। তাঁকে আউট করেন এই সফরে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ব্র্যান্ড ইভান্স (১) রান আউট হলে বড় রানের স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে যায় স্বাগতিকদের। যদিও একপ্রান্ত ধরে রাখেন মায়ার্স। তাঁর ৫৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংসের পরও দেড় শ রানের আগে থেমেছে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বাধিক ২ উইকেট নেন মিডিয়াম পেসার সাইফউদ্দিন।