ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ডারউইনে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, ন্যাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলারদের বিপক্ষে ১৯৭ বলে ১০১ রান করে এই বাঁহাতি ব্যাটার। প্রথমবার সে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। সঙ্গে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে লিড পাইয়ে দিয়েছেন। এমন সাফল্য তার কাছে বিশেষ কিছুই।
টেস্টের দ্বিতীয় দিনে চা পানের বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান ও এই সিরিজের ধারাভাষ্যকার অ্যাডম গিলক্রিস্টের সঙ্গে আলোচনায় তামিম বলেন, ‘সত্যিই এটি দারুণ ব্যাপার। যেহেতু আমি প্রথমবারের মতো এখানে (অস্ট্রেলিয়ায়) এসেছি এবং টেস্ট ক্রিকেট খেলছি, এটি আমার ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট, তাই এই সেঞ্চুরিটি আমার জন্য খুবই বিশেষ।’
দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১০২ ও তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৯৩ রানের জুটিতে সফরকারীদের চালকের আসনে রেখেছেন তামিম। ক্যারিয়ারের শুরুতে আগ্রাসী ব্যাটার হিসেবে পরিচিত পেলেও ডারউইন টেস্টে ধৈর্য পরীক্ষা দেন তিনি। দলের চাহিদ মিটিয়ে ব্যাটিং করেছেন বলে দাবি তার, ‘দল যেমনটি চেয়েছিল, আমি ঠিক সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি আমরা ভালো করতে পেরেছি। প্রতিপক্ষ কিছুটা ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিল এবং আমি স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করেছি, এটাই আমার সহজাত ক্রিকেট।’
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনাও পরিষ্কার ছিল তামিমের। বলের মুভমেন্ট ও লাইন-লেন্থ বুঝে সেই অনুযায়ী শট খেলেছেন তিনি, ‘আমি মূলত বল দেখে সে অনুযায়ী খেলেছি। অতিরিক্ত কিছু করার চেষ্টা করিনি। শুধু ঠান্ডা মাথায় থেকে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বল মোকাবিলা করার চেষ্টা করেছি।’
তবে তার সেঞ্চুরিতেই কাজ শেষ হয়নি, সেটি ভালোভাবেই জানেন তামিম, ‘আমাদের আরো দুটি সেশন ভালো খেলতে হবে। আমরা যদি এই সেশনগুলোতেও খুব ভালোভাবে খেলতে পারি, তবে তা আমাদের দলের জন্য দারুণ হবে।’
ডারউইনে দ্বিতীয় সেশন শেষে ৭৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮৬ রান। এতে ৮৮ রানে এগিয়ে আছে সফরকারীরা। সেখানে ৭৯ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক শান্ত আর মুশফিক ব্যাট করছেন ২৬ রানে।