২০১০ সালের সেই আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই গোলের কথা ফুটবলপ্রেমীদের মনে থাকারই কথা। হ্যাঁ, জোহানেসবার্গ ফাইনালের মঞ্চেই। অতিরিক্ত সময়ে তাঁর এক জাদুকরী গোলে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল স্পেন। অবিকল সেই চিত্র ফিরল এবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও।
লা রোহাদের এবারের জয়ের কারিগর টুর্নামেন্টজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেস। পুরো আসরে গোল না পাওয়া এই তারকাই বদলি নেমে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে স্পেনকে এনে দিলেন ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ গৌরব। ম্যাচ শেষে যার উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে ঝরে পড়ল একটাই কথা, ‘সবকিছু আগে থেকেই ভাগ্যে লেখা ছিল।’
ম্যাচটির নির্ধারিত ৯০ মিনিটে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দারুণ লড়াই চালিয়ে গেলেও আক্রমণভাগে কাঙ্ক্ষিত ধার দেখাতে পারেনি। উল্টো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আলবিসেলেস্তেরা। এই সুযোগটাকে দারুণভাবে কাজে লাগায় লা রোহারা। ১০৬ মিনিটে এমি মার্টিনেজের রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠান বার্সেলোনা তারকা ফেররান তোরেস। পুরো টুর্নামেন্টে ফর্মহীনতা ও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হওয়া এই ফরোয়ার্ডের জন্য মুহূর্তটি ছিল পরম মুক্তির।
ম্যাচ শেষে ফিফা ব্রডকাস্টারদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তোরেস তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয় এই গোলটি এসেছে ৪৭ কোটি (স্পেনের জনসংখ্যা) মানুষের হৃদয় থেকে, কেবল আমরা যারা এখানে আছি তাদের একার নয়। আজ আমাদের ভাগ্য আগে থেকেই লেখা ছিল, আমাদেরই জেতাটা নির্ধারিত ছিল। আজকে আমরা আমাদের দেশের মানুষের থেকে দূরে থাকলেও মনেপ্রাণে তাদের খুব কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করেছি।’
লিওনেল মেসির মতো গ্রেট খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলার স্নায়ুচাপের কথা স্বীকার করে তোরেস আরও যোগ করেন, ‘ফাইনাল ম্যাচ সবসময়ই কঠিন হয়। যখন আপনি প্রতিপক্ষ দলে মেসির মুখোমুখি হবেন, তখন কিছুটা দুশ্চিন্তা কাজ করবেই। কিন্তু আমরা সবসময় নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি, নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং আমি মনে করি আজ আমরা আবারও সেটি সফলভাবে করে দেখিয়েছি।’
টুর্নামেন্টজুড়ে চলা সমালোচনা নিয়ে তোরেস স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, ‘গোল করাটা আমার জন্য এক বিশাল স্বস্তি। পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, কিন্তু আমি আগেই যেমনটি বলেছি—ভাগ্য আগে থেকেই লেখা ছিল। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তিনি আমাকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দেন এবং শেষ পর্যন্ত যারা সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য তাদেরই তিনি সাফল্যের পুরস্কৃত করেন।’