ফাইনালে মারামরি: ফিফার তদন্ত ও শাস্তির মুখে আর্জেন্টিনা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি মাঠের ফুটবলে যেমন উত্তেজনা ছড়িয়েছে, ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর মাঠের পরিস্থিতি রূপ নিয়েছিল ঠিক ততটাই কুৎসিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত রূপে। ১-০ গোলে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হারানোর পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সাথে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলায় জড়ানোর কারণে এখন ফিফার বড় ধরনের তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা দল।

খেলা শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথেই স্পেনের খেলোয়াড়রা যখন উল্লাসে ফেটে পড়েন, তখনই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠ পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।

 অতিরিক্ত সময়ে বদলি হওয়া স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রদ্রি যখন ডাগআউট থেকে সতীর্থদের সাথে উদযাপনে যোগ দিতে মাঠে দৌড়ে যাচ্ছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে লক্ষ্য করে হাত বা পেটে ঘুষি মারেন।

রদ্রি এর প্রতিবাদ জানালে মোলিনা আরও আক্রমণাত্মকভাবে তেড়ে আসেন। তাকে সাহায্য করতে স্পেনের এরিক গার্সিয়া এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার লিয়েনড্রো পারেদেস গার্সিয়ার গলা টিপে ধরেন।

পরিস্থিতি শান্ত করতে স্পেনের তরুণ তুর্কি গাভি এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা ও পারেদেস তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এমনকি আর্জেন্টিনার অ্যাসিস্ট্যান্ট কোচ রবার্তো আয়ালা স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন এবং মিডফিল্ডার দানি ওলমোকে আঘাত করেন।

বিবিসির ধারাভাষ্যে সাবেক ইংলিশ তারকা অ্যালান শিয়ারার আর্জেন্টিনার এই আচরণকে "ভয়াবহ ও কুৎসিত" বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট একে "বর্ষণীয় ও জঘন্য আচরণ" বলে মন্তব্য করেছেন। তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ম্যাচ শেষে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং সংবাদ সম্মেলনে একে "পরাজয় মেনে নেওয়ার অংশ" হিসেবে হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছেন।

ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন  এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

১. সহিংস আচরণ: মাঠে এমন মারমুখী আচরণের জন্য পারেদেস, মোলিনা এবং সহকারী কোচ আয়ালাকে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির অনুচ্ছেদ ১৩ (অশালীন আচরণ ও ফেয়ার প্লে লঙ্ঘন) অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি বা বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।

২. রাজনৈতিক ব্যানার বিতর্ক: ফাইনালের হাঙ্গামার আগেই সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনায় যা ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত) নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের জন্য ফিফা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার লেখা ব্যানারটি ধরে রাখার জন্য ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, জিওভানি লো চেলসো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজও ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে পারেন।

৩. ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পরও ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে উপহাস এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের অশোভন উদযাপনের জন্য আর্জেন্টিনাকে জরিমানা করা হয়েছিল। যেহেতু আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন  বারবার এমন আচরণের রেকর্ড গড়ছে, তাই এবার আর্থিক জরিমানার অঙ্কটা অনেক বড় হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত