দায়িত্ব নিলেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরপরই তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

চার বছরেরও কম সময়ে যুক্তরাজ্যে এটি চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন। আর গত এক দশকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী পদে বসা ষষ্ঠ ব্যক্তি হলেন বার্নহ্যাম।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার লেবার পার্টির নেতৃত্বে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সোমবার তিনি বাকিংহাম প্যালেসে যান।

একই দিনে পদত্যাগপত্র জমা দিতে রাজা চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এরপর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয় বার্নহ্যামকে।

রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে যান। সেখানে নতুন মন্ত্রিসভার ঘোষণা দেওয়ার আগে তিনি গণমাধ্যমের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নীতিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন কিয়ার স্টারমার। এর ফলে দলের অনেক সংসদ সদস্য ও কয়েকজন মন্ত্রীর সমর্থন হারান তিনি। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জোরালো হলে বার্নহ্যামকে সামনে আনা হয়।

রাজনৈতিক মিত্রদের সমর্থনে অনুষ্ঠিত একটি উপনির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে ফিরে আসেন বার্নহ্যাম। পরে দলীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় আর কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর পথ অনেকটাই নিরঙ্কুশ ছিল।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে ঋষি সুনাকও কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীনভাবেই কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে তার আগে তিনি লিজ ট্রাসের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন এবং ট্রাসের মন্ত্রিসভায়ও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি অতীতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ ছেড়ে স্থানীয় প্রশাসনে মনোযোগ দেন। কয়েক বছর পর আবার জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসে এবার যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান