হামাসের নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খলিল আল-হাইয়া। গতকাল সোমবার হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, সংগঠনের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান হিসেবে খলিল আল-হাইয়াকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির সাবেক প্রধান ইয়াহিয়া সিনওয়ারের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নিহত হন সিনওয়ার। সে বছরের জুলাইয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলের হামলায় তৎকালীন হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়া নিহত হওয়ার পর গোষ্ঠীটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন সিনওয়ার। তবে তার মৃত্যুর পর নতুন কোনো নেতা নির্বাচন না করে, গোষ্ঠীটির শুরা কাউন্সিলের প্রধান মুহাম্মদ ইসমাইল দারবিশের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল হামাস।
শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর হামাসের নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছিল।
ইয়াহিয়া সিনওয়ারের মৃত্যুর পর সংগঠনটির শীর্ষ আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন খলিল আল-হাইয়া। এরপর থেকে হামাসের নেতৃত্ব কাঠামোয় আবারও ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন তিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কাতারে নির্বাসিত হাইয়া নিজেও ইসরায়েলের একটি হত্যাচেষ্টার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন। সে সময় হামাসের কয়েকটি সূত্র মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছিল হাইয়া, খালেদ মিশাল, জাবের জাবারিউরসহ হামলায় লক্ষ্যবস্তু করা সব শীর্ষ নেতাই তখন বেঁচে যান। তবে ওই হামলায় খলিল আল-হাইয়ার ছেলে- হাম্মাম আল-হাইয়া এবং তার কার্যালয়ের পরিচালক জিহাদ লুব্বাদ নিহত হন।
১৯৬০ সালে গাজায় জন্ম নেওয়া হাইয়া ১৯৮০ সালে হামাসের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন। হামাসের রাজনৈতিক শাখার শুরুর দিককার সদস্য হাইয়া পরবর্তী সময়ে ছাত্র ও শ্রমিক ইউনিয়নে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনি আইন পরিষদের (পিএলসি) সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে তাকে হত্যার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায় ইসরায়েল। তবে সেই হামলায় নিজের স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে হারান হাইয়া। এরপর থেকে তিনি ২০১৪ সালের গাজা যুদ্ধ এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলমান গণহত্যায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে আসছেন।