কোচ : লুইস দে লা ফুয়েন্তে ৯/১০
আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিলেন এবং নিখুঁতভাবে বদলি খেলোয়াড়দের ব্যবহার করেছেন। সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ঘরানায় দুটি বড় টুর্নামেন্ট জিতলেন তিনি। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের নিয়ন্ত্রণ যেমন ছিল, ফাইনালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
উনাই সিমোন (গোলরক্ষক) ৭/১০
ম্যাচের শুরুতে মেসি যখন গোল অভিমুখে ছুটে আসছিলেন, তখন দারুণ দক্ষতায় লাইনের সামনে চলে আসেন। তবে পুরো ম্যাচে এরপর আর তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি। মাত্র এক গোল হজম করে গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের পাশাপাশি ক্লিন শিট রেখে আসর শেষ করলেন।
পেদ্রো পোরো (রাইট ব্যাক) ৮/১০
মাঠের ডানপ্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণভাগে জায়গা তৈরি করেছেন। পুরো ম্যাচজুড়েই তার ক্রসগুলো আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের জন্য বেশ অস্বস্তিকর ছিল।
আইমেরিক লাপোর্তে (সেন্টার ব্যাক) ৭/১০
ম্যাচ যত গড়িয়েছে, তার আকাশপথের (এরিয়াল) দক্ষতা তত বেশি কার্যকর হয়েছে। আর্জেন্টিনার শারীরিক শক্তি-নির্ভর ফুটবলের সামনে রক্ষণভাগে এক ভরসার প্রতীক ছিলেন।
পাউ কুবার্সি (সেন্টার ব্যাক) ৮/১০
বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া এই ডিফেন্ডার আরও একটি পরিপক্ব পারফরম্যান্স উপহার দিলেন। স্পেনের আক্রমণ গড়ার পেছনের মূল কারিগর ছিলেন এবং তার ফাউল থেকেই এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড পান। পজিশনিং ও শারীরিক শক্তিতে ছিলেন অনবদ্য।
মার্ক কুকুরেয়া (লেফট ব্যাক) ৮/১০
বামপ্রান্তে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনের মাঝে বারবার ফাঁকা জায়গা তৈরি করে ঢুকে পড়েছেন। আক্রমণ ও রক্ষণ উভয় ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনার জন্য আতঙ্ক ছিলেন।
রদ্রি (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার) ৮/১০
স্পেন দলের ইঞ্জিন। বরাবরের মতোই নিখুঁত পাসিং এবং মাঝমাঠের লড়াইয়ে ছিলেন অসাধারণ। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে মাঠ ছাড়লেও স্পেনের এই জয়ের মূল ভিত্তি তিনিই গড়ে দিয়ে যান।
ফাবিয়ান রুইস (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার) ৭/১০
তার শান্ত স্বভাব এবং নিখুঁত পাসিং মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার শারীরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করেছে। তবে কিছুটা অতিরিক্ত সাইড-পাস খেলেছেন। আক্রমণ বাড়াতে দ্বিতীয়ার্ধে তার জায়গায় পেদ্রিকে নামানো হয়।
দানি ওলমো (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার) ৬/১০
ইয়ামালের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক হুমকি ছিলেন তিনি। দূর থেকে শট নিতে দ্বিধা করেননি এবং ডানপ্রান্ত থেকে বক্সে দারুণভাবে ঢুকে পড়েছেন।
আলেক্স বায়েনা (লেফট উইঙ্গার) ৬/১০
বামপ্রান্তে কুকুরেরার সাথে ভালো বোঝাপড়া ছিল এবং মাঝমাঠে আধিপত্য বাড়াতে ভেতরে চলে আসছিলেন। পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেললেও ফাইনাল ম্যাচটি তার জন্য কিছুটা নি®প্রভ ছিল।
লামিন ইয়ামাল (রাইট উইঙ্গার) ৭/১০
আশা অনুযায়ী ফাইনাল কিংবা পুরো বিশ্বকাপ সেভাবে রাঙাতে পারেননি। তবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার তাগলিয়াফিকোর আক্রমণাত্মক মানসিকতা সত্ত্বেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মোটেও ভয় পাননি এবং সবসময় ভীতি ছড়িয়েছেন।
মিকেল ওয়ারসাবাল (স্ট্রাইকার) ৬/১০
মাঝমাঠ ও উইঙ্গারদের মধ্যে যোগসূত্র ভালো বজায় রাখলেও আক্রমণভাগে তেমন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিলেন।
বদলি খেলোয়াড়
ফেরান তোরেস (স্ট্রাইকার) ৮/১০
অতিরিক্ত সময়ে তার দুর্বল বাঁ-পা দিয়ে এক দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জয় নিশ্চিত করেন। মাঠে নামার পর থেকেই আক্রমণভাগের গতি ও তীব্রতা বাড়িয়ে দেন।
পেদ্রি (মিডফিল্ডার) ৭/১০
রুইসের জায়গায় নেমে সহজেই মানিয়ে নেন। অতিরিক্ত সময়ে তার ড্রিবলিং স্পেনের আক্রমণকে আরও ধারালো করে।
মিকেল মেরিনো (মিডফিল্ডার)
নিকো উইলিয়ামসের বাতিল হওয়া গোলের আগে ওতামেন্দির ওপর ফাউলের সিদ্ধান্তটি হয়তো তার প্রতি কিছুটা অন্যায় ছিল। অতিরিক্ত সময়ে মেসির জোরালো শট নিজের মুখ দিয়ে ব্লক করার সাহসিকতা দেখান।
নিকো উইলিয়ামস (রাইট উইঙ্গার) ৮/১০
তার একটি গোল বাতিল হলেও তোরেসের জয়সূচক গোলের পেছনে তার হেড অ্যাসিস্টটি ছিল অসাধারণ।
কোচ : লিওনেল স্কালোনি ৬/১০
স্পেনের মাঝমাঠের দেয়াল ভাঙার কোনো উপায় খুঁজে পাননি। শুরুর দুই সেন্টার-ব্যাককে চোট ও ক্লান্তির কারণে তুলে নিতে বাধ্য হওয়ায় তিনি কিছুটা অসহায় ছিলেন।
এ ছাড়া এনজোর লাল কার্ডের পর দলকে নতুন কৌশলে সাজাতে ব্যর্থ হন। অতিরিক্ত সময়ে তার বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্তগুলো কিছুটা অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ছিল।
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ৭/১০
কয়েকবার বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়েছিল, যা বিপদের কারণ হতে পারত। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ইয়ামাল ও উইলিয়ামসের দুটি দুর্দান্ত শট ঠেকিয়ে দেন।
নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লেফট ব্যাক) ৭/১০
ইয়ামালের বিরুদ্ধে দারুণ লড়াই করেছেন। প্রথমার্ধে কার্ড না পাওয়াটা ছিল সৌভাগ্যের। শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে ইয়ামালকে পেছনে কোনো ফাঁকা জায়গা দেননি।
লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (সেন্টার ব্যাক)৫/১০
শুরুটা আগ্রাসী করলেও প্রথমার্ধেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। শুরুতে হলুদ কার্ড দেখাটা চমকপ্রদ ছিল না। তার জায়গায় ওতামেন্দি নামেন।
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো (সেন্টার ব্যাক) ৭/১০
রক্ষণভাগে সুশৃঙ্খল ছিলেন এবং পুরো ম্যাচে তার পজিশনিং ছিল দুর্দান্ত। ৭০ মিনিটে তার উঠে যাওয়াটা ক্লান্তির কারণেই মনে হয়েছে।
গনজালো লো মনতিয়েল (রাইট ব্যাক) ৬/১০
দ্বিতীয়ার্ধে কুকুরেলা যখন খুব কাছ থেকে শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেপশন করেন। বায়েনাকে ভালোভাবেই সামলেছেন, তবে আক্রমণভাগে কোনো অবদান রাখতে পারেননি।
এনজো ফার্নান্দেজ (সেন্টাল মিডফিল্ডার) ৪/১০
তার অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব দলের ক্ষতি করেছে। দুটি হলুদ কার্ডই খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এবং অনাবশ্যক ছিল। তার লাল কার্ডটাই মূলত ম্যাচটি স্পেনের দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
ফাকুন্দো মেদিনা (সেন্টার ব্যাক)৫/১০
রোমেরোর জায়গায় নেমে রক্ষণভাগে মোটামুটি ঠিকঠাক খেলেছেন।
আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার) ৫/১০
বল পায়ে ধীরগতির ছিলেন এবং ম্যাচের শুরুতে একটি বাজে ট্যাকেলের জন্য কার্ড না পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। রদ্রি, রুইস এবং পরবর্তীতে পেদ্রির কাছে মাঝমাঠের লড়াইয়ে পুরোপুরি পরাস্ত হন।
নিকোলাস গঞ্জালেস (লেফট উইঙ্গার) ৫/১০
মূল একাদশে তার সুযোগ পাওয়াটা চমক ছিল, কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। ম্যাচে তার উপস্থিতি বোঝাই যায়নি এবং পোরোকে কোনো সমস্যায় ফেলতে পারেননি।
রদ্রিগো দে পল (রাইট উইঙ্গার) ৬/১০
ক্লান্তিহীনভাবে পুরো মাঠ দৌড়েছেন এবং কুকুরেলার ওভারল্যাপিং রানগুলো রুখতে কার্যকর ছিলেন। তবে আক্রমণ বা ক্রসিংয়ে নিজের কারিশমা দেখানোর সুযোগ পাননি।
হুলিয়ান আলভারেজ (স্ট্রাইকার) ৬/১০
রক্ষণাত্মক দিক থেকে অসাধারণ খাটুনি দিয়েছেন এবং বল কন্ট্রোল ও ড্রিবলিং দিয়ে একাই আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ সচল রাখার চেষ্টা করেছেন।
লিওনেল মেসি (স্ট্রাইকার) ৫/১০
আর্জেন্টিনার এই মহানায়কের জন্য ম্যাচটি ছিল ভীষণ কঠিন, পুরো ম্যাচে নিজের ছন্দ খুঁজে পাননি। তোরেসের গোলের পর আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা করলেও স্পেনের ডিফেন্স তাকে সহজেই আটকে রাখে।
বদলি খেলোয়াড়
নকোলাস ওতামেন্দি (সেন্টার ব্যাক) ৬/১০
মেরিনোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে উইলিয়ামসের গোল বাতিল করানোর ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। ৩৮ বছর বয়সে স্পেনের আক্রমণের সামনে ভালোই সামাল দিয়েছেন।
লিওনার্দো পারেদেস (মিডফিল্ডার) ৬/১০
মাঠে নেমেই মাঝমাঠ শক্ত করেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকেল করেন। তবে ম্যাচ শেষের বাঁশির পর গাভির সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন।
নাহুয়েল মলিনা (রাইট ব্যাক) ৫/১০
মাঠে নামার পর থেকেই উইলিয়ামস তাকে পরাস্ত করেছেন এবং তোরেসের গোলের ঠিক আগে উইলিয়ামসের কাছে হেডের লড়াইয়ে হেরে যান।
জিওভানি সিমিওনে (রাইট উইঙ্গার) ৬/১০
অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও মাঝেমধ্যে পরিকল্পনাহীন মনে হয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর গোল করার এক সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন।