প্রথম ভাষণেই জনগণকে স্বস্তির বার্তা দিলেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গত সপ্তাহে লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্যার কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হন।

বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্যের চতুর্থ এবং ২০১৬ সালের পর সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হলেন।

ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি দেশের গৃহহীনতা ও রাস্তায় বসবাসের সমস্যা সম্পূর্ণভাবে দূর করার অঙ্গীকার করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে আবাসন বিভাগের বিদ্যমান বাজেট থেকেই অতিরিক্ত ৩৪ কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (নম্বর ১০ ডাউনিং স্ট্রিট)।

তিনি জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি নতুন ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি এমন একটি নতুন অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো আবারও জননিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা হবে।

বার্নহ্যাম বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জনগণের এখনই স্বস্তি প্রয়োজন। তাই জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ মঙ্গলবার থেকেই ঘোষণা করা শুরু হবে।

এ ছাড়া তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা, আরও বেশি কাউন্সিল হাউজ নির্মাণ এবং প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি রক্ষার পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ও ঋণসংক্রান্ত বিদ্যমান আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন। এতে জন হিলিকে অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) নিয়োগ দিয়ে ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক সৃষ্টি করেন।

এর আগে র্যাচেল রিভস ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি অর্থমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন এবং বার্নহ্যামের মন্ত্রিসভায় অন্য কোনো দায়িত্বও গ্রহণ করবেন না।

মন্ত্রিসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্যে সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে। শাবানা মাহমুদকে পুনরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লুইস হেইকে ক্যাবিনেট অফিসের দায়িত্বের পাশাপাশি ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বাইরে আরও বিভিন্ন পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ১০ নম্বর ভবনের সামনে দেওয়া বার্নহ্যামের ভাষণে আগের অনেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিল থাকলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীক হয়ে ওঠা নোট বা পোডিয়াম ব্যবহার না করে তিনি সরাসরি বক্তব্য দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোর ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে সচেতন। তার মতে, যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

বার্নহ্যাম আরও বলেন, সেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিবিদদের আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে, নিজেদের মান উন্নত করতে হবে এবং নতুন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।