বগুড়ার কাহালু উপজেলায় পুকুরে ডুবে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা আদর্শ গুচ্ছগ্রামে এঘটনা ঘটে। বেলা দেড়টার দিকে পুকুর থেকে ওই তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুরা হলেন, ভালতা আদর্শ গুচ্ছগ্রামের ফারুকের মেয়ে ৮ বছর বয়সী ছেলে ফাহিম ও ৫ বছর বয়সী মেয়ে সুরাইয়া খাতুন এবং একই গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ৬ বছর বয়সী ছেলে জাকিরুল ইসলাম।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে তারা তিন শিশু মিলে গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। গোসলের একপর্যায়ে পানির গভীরতায় তলিয়ে যায় তারা। ওই সময় গ্রামের একজন পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক বাচ্চাকে ডুবে যেতে দেখে। পরে তার চিৎকারে অন্যরা ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন
একপর্যায়ে পুকুর থেকে দুই বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আরেকটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
জাকিরুলের নানা রফিকুল জানিয়েছেন, তিন বাচ্চার কেউই সাঁতার পারে না। তারা পুকুরেও নামতো না। আজ কি কারণে নেমেছিল, কেউই টের পায়নি।
নিহত ফাহিম ও সুরাইয়ার মা মালেকা বেগম জানান, তাদের বাবা কুষ্টিয়া থাকেন। বাড়িতে নানী তদের দেখাশোনা করে। প্রতিদিনের ন্যায় সকালে কাজে চলে যান তিনি। সেখানে জানতে পারেন তার ছেলে মেয়ের কিছু হয়েছে। বাসায় এসে দেখেন পুকুর ডুবে তার ছেলে মেয়ে মারা গেছে।
অপরদিকে নিহত জাকিরুলের বাবা রাশেদুল জানান, তিনশিশু খেলছিল একসাথে। পরে তারা কীভাবে পুকুরে গেছে জানেন না। লোকজন খবর দিলে ছুটে এসে ছেলে জাকিরুলের মরদেহ দেখতে পান।
কাহালু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সবুজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই স্থানীয়রা দুই শিশুদের উদ্ধার করেছিলেন।
কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন চন্দ্র মাহাতো বলেছেন, আমরা খবর পেয়ে মুরইলের ভালতা গ্রামে ছুটে আসি। গোসলে নেমে তিন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। নিহত শিশুদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে বিকেলে কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কাহালু থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ওই তিন শিশুর পরিবারকে সমবেদনা জানান। এঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।