চাচিকে নিয়ে উধাও ভাতিজা, থানায় অভিযোগ চাচার

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগে নিজের স্ত্রী ও প্রতিবেশী এক ভাতিজার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক স্বামী। 

অভিযোগে স্বামী মনি চন্দ্র দে (৩২) দাবি করেছেন, তার স্ত্রী ঝর্ণা রানী দে ওরফে মায়া (২৫)-এর সঙ্গে ৭ বছরের সংসার। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছরের এক ছেলে সন্তানও রয়েছে। ছেলেকে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেন ঝর্ণা রানী দে। একপর্যায়ে চলতি মাসের ১ জুলাই  নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দে(২৭) ভাতিজার হাত ধরে  বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

ঘটানাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃ-দেবস্থান গ্রামে। এ নিয়ে ঝর্ণা রানীর দে ওরফে মায়ার স্বামী বাদী হয়ে গত ১৫ জুলাই ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি স্ত্রী ঝর্ণা রানী দে এবং একই এলাকার প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্র দে-কে অভিযুক্ত করেছেন।

লিখিত অভিযোগে মনি চন্দ্র দে উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে হোটেল কর্মচারী হিসেবে কাজ করার সুবাদে দীর্ঘ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন। এ সুযোগে তার স্ত্রী অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ত্রীকে সতর্ক করা হলেও তিনি সম্পর্ক থেকে সরে আসেননি। পরবর্তীতে চলতি মাসের ১ জুলাই অভিযুক্ত রুদ্র চন্দ্র দে কৌশলে তার স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী। এ সময় ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মনি চন্দ্র দে আরও দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
 
এ বিষয়ে রাজিবপুর ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জনি দে বলেন, রুদ্র চন্দ্র দে একজন নারি কেলেঙ্কারি এবং তার একটি লাঠিয়াল বাহিনী আছে। সে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য৷ প্রতিবেশী কাকীর সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য রুদ্রের পরকীয়ার  ঘটনাটি সত্য। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী ভাতিজা রুদ্র চন্দ্রের সাথে চাচি ঝর্ণা রানী দের ঘটে যাওয়া  ঘটনাটি সত্য। বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়ে মনি চন্দ্রকে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুদ্র ও তার পরিবারে  ব্যবহৃত দুটি মোবাইল  নম্বরে একাধিকবার কল দিলে নম্বর দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে অভিযুক্ত রুদ্র চন্দের চাচা রনজিত চন্দ্র দে নম্বরে কল দিলে তিনি বলেন,আমার ভাতিজা রুদ্রের সঙ্গে ঝর্ণা রানীর মোবাইল ফোনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। কিন্তু আমার ভাতিজা ঝর্ণা রানীকে নিয়ে পালিয়ে যায়নি। বরং ঝর্ণা রানী দে তার স্বামী মনি চন্দ্র দে-কে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। 

এ ব্যাপারে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রবোধ রঞ্জন সরকার বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ নিয়ে মনি চন্দ্র দে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত  সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।