খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পৌরসভা সদর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের নাম বিশ্বজিৎ দেউড়ি (২৩)।
তিনি আরএফএল কোম্পানির পাইকগাছা শাখায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর থেকে তার সহকর্মী ও রুমমেট অন্তর সরকার (২৩) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ রুমে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড এলাকার রাম প্রসাদ মণ্ডলের দোতলা বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকেন তারা। গত দুই মাস ধরে ঝালকাঠি সদরের বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ির ছেলে বিশ্বজিৎ দেউড়ি এবং মাদারীপুরের কালকিনী উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে অন্তর সরকার (২৩) একসঙ্গে বসবাস করে আসছিলেন। পলাতক অন্তর সরকার আরএফএল-এর সহকারী টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গত সোমবার (২০ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় দুজনে স্থানীয় একটি দোকানে নাস্তা করেন। এরপর তাদের দেখা যায়নি।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১টা পর্যন্ত তাদের দুজনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তাদের সহকর্মী নয়ন রায় (২৬) খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি ঘরের দরজার সামনে রক্ত এবং একটি রক্তমাখা ছুরি পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পাইকগাছা থানা পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে পাইকগাছা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আমীর হামজা এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) জুলফিকার আলী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মেঝেতে বিশ্বজিৎ দেউড়ির রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পূর্ব শত্রুতা বা অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধের জেরে সোমবার গভীর রাত অথবা মঙ্গলবার দুপুরের আগে যেকোনো সময় বিশ্বজিৎকে হত্যা করা হয়েছে।
হত্যার পর মরদেহ ঘরের ভেতর ফেলে রেখে বাইর থেকে তালা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান সহকর্মী অন্তর সরকার।
পুলিশ আরো জানিয়েছে,মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ পলাতক অন্তর সরকারকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।