শিশুর শারীরিক মানসিক নৈতিক ও বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ কতটা সমৃদ্ধ হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করে মা-বাবা কীভাবে লালন করছেন তার ওপরে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকরা না জেনে শিশুর সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করেন, যা সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কোন ধরনের আচরণ করা যায়, আর যায় না তা জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সহজ ভাষায় লিখেছেন শ্যামল আতিক
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য স্থিতিশীল ও শান্তিময় পারিবারিক পরিবেশ খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে কাটানো সময়কে শিশু যত উপভোগ করবে, পারস্পরিক সম্পর্ককে তত বেশি মূল্যায়ন করতে শিখবে। সবার সঙ্গে স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে উঠবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দাম্পত্য কলহ শিশুর মানসিক বিকাশকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই শিশুরা সহজে কারও সঙ্গে মিশতে পারে না, সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। শিশুর সামনে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করবেন না। যদি কোনো কারণে মতপার্থক্য বা কথা কাটাকাটি হয়ে যায়, তাহলে শিশুর সামনেই তা মীমাংসা করবেন। অথচ আমরা করি তার উল্টো। যার ফলে শিশু তার মা-বাবার মনোমালিন্যের বিষয়টি দেখল, কিন্তু সমঝোতার বিষয়টি শিখল না।
স্বামী-স্ত্রী, একে অন্যকে জব্দ করার জন্য সন্তানকে সাক্ষী করবেন না। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে অথবা একে অন্যকে ঘায়েল করতে, কখনো শিশুর সমর্থন চাইবেন না। স্বামী বা স্ত্রী কেউ ভুল করলে, শিশুর সামনে প্রতিবাদ করবেন না। একে অপরের দোষ-ত্রুটি শিশুকে বলবেন না।
মনোমালিন্য হলে স্বামী ও স্ত্রী সরাসরি কথা বলবেন। শিশুকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন না। শিশুর সামনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার রোমান্টিক আলোচনা বা আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে শিশুর কোমল মনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যৌথ পরিবারের শিশুরা খুব সহজে অন্যদের সঙ্গে শেয়ারিং বা ভাগাভাগি করতে পারে। এ কারণে তারা যেকোনো পরিস্থিতিকে খুব সহজেই মানিয়ে নিতে পারে। যৌথ পরিবারে শিশু লালনের ক্ষেত্রে একেকজন একেক ধরনের পরামর্শ দেন। এসব ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী দুজনে মিলে সিদ্ধান্ত নেবেন, তারপর বিনয়ের সঙ্গে সবাইকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। সাংস্কৃতিক পরিম-ল তৈরির জন্য পরিবারে লাইব্রেরি গড়ে তুলুন। যে শিশু ছোটবেলা থেকে বইপত্র দেখে বড় হয়, তার চিন্তাভাবনা অন্য সবার থেকে কিছুটা হলে ব্যতিক্রম হয়। পেশাজীবী বাবা অথবা ব্যস্ততার কারণে মা যদি দেরি করে বাসায় ফেরেন, তাহলে বাসায় এসে আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে শিশুদের সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করা। তাদের সঙ্গে খেলাধুলা অথবা গল্প করতে পারেন।
সুখ, দুঃখ, অসুস্থতা, বিপদ, দুর্যোগ অথবা যেকোনো প্রতিকূলতায় পরিবার পাশে থাকে এই অনুভূতিটুকু শিশুকে দিন। এর ফলে তার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হবে। প্রতিদিন অন্তত একবেলা পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খাবার গ্রহণ করুন।