লিটন ছাড় পেলেও ফাঁসছেন মেহেদী!

জিম্বাবুয়ে থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে দেশে ফেরার আগেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাঠগড়ায় শেখ মেহেদী হাসান। এই সফরে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য নয়, সর্বশেষ ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পর একটি সাক্ষাৎকারে ‘বোর্ডের অবিচারের শিকার হয়েছেন’ বলে অভিযোগ করায় ফেঁসেছেন এই অফ স্পিন অলরাউন্ডার। এ জন্য চুক্তির নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছে তার বিপক্ষে। এবার বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জবাবদিহি করতে হবে মেহেদীকে। এই বিভাগের চেয়ারম্যান কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এ নিয়ে এখনো মেহেদীর সঙ্গে বসতে পারিনি আমরা। সে দেশে ফিরলে ব্যাখ্যা চাইব। এবারই নতুন নয়, এর আগেও সে বোর্ডের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছে।’

এর আগে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন কুমার দাসকে জিজ্ঞাসার জন্য ডেকেছিল ডিসিপ্লিনারি কমিটি। গত রবিবার তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কেন বোর্ডের অনুমতি ছাড়া বিদেশ সফরে গেছেন তিনি। সেখান থেকে তাকে ডেকে পাঠিয়ে জবাব চায় বোর্ড। লিটন গত সোমবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে গেছেন। বিসিবির অন্যতম পরিচালক সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘লিটনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট হওয়ার বিষয়ের থেকে বড় ইস্যু হচ্ছে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং কোনো চুক্তিভঙ্গ হয়েছে কি না, সেটি যাচাই করা।’ এবার মেহেদীর সঙ্গে কথা বলে দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, বা নিলেও কেমন শাস্তি হবে, সেটা জানিয়ে দেবে ডিসিপ্লিনারি কমিটি। এ প্রসঙ্গে কাইয়ুম বলেন, ‘যেহেতু এখানে আইনগত বিষয় আছে, সেগুলো দেখে আমরা বোর্ডকে জানিয়ে দেব। এরপর বাকি সিদ্ধান্ত বোর্ডের।’

মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও এক সাক্ষাৎকারে যথেষ্ট সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ এনে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আঙুল তোলেন তিনি। তখন অবশ্য বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ছিল না। কিন্তু চলতি বোর্ডের সময় একই অভিযোগ আনায় নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। কয়েকজন পরিচালক ও কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত মেহেদীকে সাজা দিতেই লিটনকে নিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের তদন্ত শুরু করেছে ক্রিকেট বোর্ড। শৃঙ্খলা কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘লিটন ছাড় পেয়ে যাবে। তাকে সতর্ক করা হতে পারে। তবে মেহেদীকে নিয়ে বেশি অভিযোগ। সে হয়তো সাজা পেতে পারে।’ কাইয়ুম বলেন, ‘এসব কথা কীভাবে এসেছে, জানি না। তবে আমরা আগে তার সঙ্গে কথা বলি। তার আগে বলতে পারব না কী ধরনের সাজা হবে।’

এখানেই থেমে নেই বিসিবি। কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আনুষ্ঠানিকভাবে ওঠা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এই বিভাগের চেয়ারম্যান তাদের নাম না জানালেও সত্যতা নিশ্চিত করেন। খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এখন থেকে পরিচালকরাও ছাড় পাবেন না বলে মন্তব্য করেন সিরাজউদ্দিন, ‘এটি শুধু ক্রিকেটারদের জন্যই নয়। বোর্ডের কর্মকর্তা, পরিচালক, কাউন্সিলর সবার ক্ষেত্রেই আইনের মধ্যে থেকে কাজ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। স্বার্থের সংঘাত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।’

ক্রিকেটার, কর্মকর্তাদের সামাজিক মাধ্যমের গতিবিধির দিকেও চোখ রাখবে বিসিবি। কিন্তু এভাবে বোর্ড কতজনের মুখ বন্ধ করতে পারবে, সে অভিযোগও উঠেছে ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে। সবাইকে চুক্তির নিয়ম মানতে হবে বলে সতর্কবার্তা সিরাজউদ্দিনের কথায়, ‘এটি কারও মুখ বন্ধ করার উদ্যোগ নয়। খেলোয়াড়দের সঙ্গে করা চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটাররা কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বর্তমান বোর্ড এসব বিষয় যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে চায়।’ লিটনকে ডেকে অন্যদের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি, ‘লিটনের শুনানিতে তাকে জানানো হয়েছে, এই বার্তাটি যেন সে তার সতীর্থদের কাছেও পৌঁছে দেয়। বোর্ড খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দেবে, তবে শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তামিম ইকবালের (বিসিবির সভাপতি) দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের ভেতরের সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবে জানেন। যেসব কারণে পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়েছে, বোর্ড বিব্রত হয়েছে বা নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য।’