টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ফের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৬টায় দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে (খালিশাচাপানি বাইশপুকুর) তিস্তা পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।
যে কোন সময় তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে উজানে বৃষ্টির পানি তিস্তা দিয়ে রাতে নামার সম্ভবনা আছে। যার ফলে বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা কাছাকাছি কিংবা অতিবাহিত হয়ে পারে। মঙ্গলবার রাত ৯টা পর্যন্ত তিস্তা নদী বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
পাউবো ডালিয়া ডিভিশনের তিস্তা নদীর পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এরআগে মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ৫২.০০, সকাল ৯টায় ৫১.৯৩, বেলা ১২টায় ৫১.৯০, বিকাল ৩টা ও ৬টায় ৫১.৮৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। এদিন রাত ৯টায় পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫১.৯৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
তিনি আরও জানান, গত সোমবার (২০ জুলাই) সকালে তিস্তা নদী বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সেদিন তিস্তার পানি ৫২.০০ থেকে ৫২.১০ এর মধ্যে বাড়া-কমার মধ্যে ছিল।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় গত ১৩ জুলাই থেকে উজানের পানি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করায় তিস্তা পাড়ের সাধারণ মানুষদের কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্ব ছাতনাই গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেকে ভাটি নিচু এলাকা ছেড়ে উজানে অস্থানীয়ভাবে আশ্রয় নিয়েছে।
ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আমার ইউনিয়নের চর এলাকার ১ হাজার ৩৫০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে গত ১৩ জুলাই থেকে। পানি কমলে এলাকার মানুষের কষ্ট কম হবে বলে এই আশায় রয়েছে তারা। কিন্তু উজানের পানি আর কমছে না।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী আরও জানান, বাংলাদেশ অংশের ডালিয়ায় তিস্তার ব্যারেজ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ভারতের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবেশ করতে দেড় থেকে দুই ঘন্টার মতো সময় লাগে। তবে পানির প্রবাহ বেশি থাকলে ও উজানে বেশি ঢল হলে সেই পানি ঘন্টাখানিকের মধ্যে প্রবেশ করে।
তিনি জানান, পানির প্রবাহ কম থাকলে তিস্তা ব্যারেজে প্রতি ঘণ্টায় ৮-১০ কিলোমিটার গতিতে পানি প্রবাহিত হয়। তবে উজান থেকে অতিরিক্ত ঢল নেমে এলে পানির গতি ও প্রবাহ উভয়ই বেড়ে যায়। এ কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছে।