নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতে চলমান আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
শুধু ভারতে নয়, এই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও সান হোসে, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
এদিকে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সমর্থকেরা যন্তর মন্তরে অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।
বিরোধী দলগুলোর নেতারাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। পরে তাঁকে ও কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।
আটকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী পাঁচ দফা দাবি জানান। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, পুলিশের আচরণের জন্য সরকারের ক্ষমা এবং এ বিষয়ে সংসদে অমিত শাহের বক্তব্য দাবি করেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়েও সংসদে আলোচনার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোনম ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর সদস্যরা নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ার ও সান হোসেতে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ করেন। সেখান থেকেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে লন্ডন ও ডাবলিনেও বিক্ষোভ হয়েছে।
সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) সংসদ অভিযান কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাঁদের বাধা দেয়। যদিও তারা সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছাতে পারেননি। সিজেপি ও বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দমনমূলক আচরণ করেছে।
মঙ্গলবার যন্তর মন্তর এলাকায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। রাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র কটাক্ষ করে বলেন, সরকারের কাছে এই আন্দোলন যেন ‘আউট অব সিলেবাস’।
এর আগে ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান। পরদিন ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভে পুলিশি আচরণ নিয়ে রাজ্যসভায় আলোচনার দাবি জানিয়ে নোটিশ দেন তৃণমূলের নাদিমুল হক।
তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার, পিটিআই