সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ০১:১১ পিএম

সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বিস্তৃত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি ঘোষণা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। চুক্তি কার্যকর হলে সৌদি আরব নিজ দেশে পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন-রিয়াদ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই এ চুক্তির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের আশা।

তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উভয় দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা এবং ইসরায়েলের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির আড়ালে ভবিষ্যতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর পরিদর্শনের ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে।

এই চুক্তি মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে এটি অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর আগে বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে।

এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে অনুরূপ একটি চুক্তির চেষ্টা করেছিল। তবে সেটি ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন সেই শর্ত বাদ দিয়েই পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে ভারসাম্য এবং পারমাণবিক বিস্তার রোধের প্রচেষ্টায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত