ইরান যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে সিনেটে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে ট্রাম্পের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরব নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লির জন্য জ্বালানি সমৃদ্ধ (ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্ট) করার সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

চুক্তির খবর প্রকাশের পর ইসরায়েলে সমালোচনা শুরু হয়। নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বলেন, এতে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়তে পারে।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা একাদশ রাতের মতো মার্কিন বাহিনী ইরানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সিএনএনের যাচাইকৃত ভিডিওতে খুজেস্তান প্রদেশের বেহবাহান বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের পর আকাশে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময়সীমা, সামরিক কৌশল এবং ব্যয় নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে জবাব চেয়েছেন সিনেটের শীর্ষ আইনপ্রণেতারা। তাদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রাণহানি যেমন বাড়ছে, তেমনি যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে ইরান বুধবার জর্ডানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ে বলে জানিয়েছে জর্ডানের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, চারটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাব আল-মান্দেব প্রণালির মধ্য দিয়ে সৌদি আরবগামী জাহাজ চলাচলে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বাণিজ্যিক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রণালির উদ্দেশ্যে যাত্রারত অন্তত চারটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। ডয়চে ব্যাংক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় বাজারে এ ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নিহত চার মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ বুধবার মর্যাদার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের ডোভার এয়ার ফোর্স ঘাঁটিতে নেওয়া হবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।