শোক ও শ্রদ্ধায় ৯/১১-এর নিহতদের স্মরণ

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৩ পিএম

৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক প্রেসিডেন্টরা শোক ও শ্রদ্ধায় নিহতদের স্মরণ করেছেন। হাইজ্যাক করা বিমানগুলো যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ার মাঠে আঘাত হানে, তখন প্রায় তিন হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনে অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন আর ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্মৃতিসৌধে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চারজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাদের সহধর্মিণীরা।

হামলার সময় অনুযায়ী নীরবতা পালন করা হয় এবং নিহত প্রায় তিন হাজার মানুষের নাম পড়ে শোনানো হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ হিসেবে ম্যানহাটনের আকাশে দুটি আলোর স্তম্ভ জ্বালানো হয়। খবর বিবিসির।

হামলার সময়কার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, বারাক ওবামা ও বিল ক্লিনটন শুক্রবার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার স্মৃতিসৌধে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পেন্টাগনে ট্রাম্পের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা এবং ৯/১১-এর সময় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কনডোলিজা রাইস।

ট্রাম্প বলেন, আজ আমরা সেই পবিত্র শপথ নবায়ন করছি, যা এক চতুর্থাংশ শতাব্দী আগে তাদের নামে প্রথম শপথ করেছিলাম। আমরা কখনোই তাদের ভুলব না।

তিনি ৯/১১-পরবর্তী ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’কে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত করার চেষ্টা করেন এবং বলেন, ইসলামিক রিপাবলিক কখনো ‘পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না’।

পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিলেও নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠান হয়, যেখানে ফ্লাইটে ৯৩ জন যাত্রী বিধ্বস্ত হয়েছিল। যাত্রীরা হাইজ্যাকারদের বিরুদ্ধে লড়াই করার পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানে নিহতদের নাম প্রায় চার ঘণ্টা ধরে পড়া হয়। এ সময় ৯/১১ ফ্যামিলিজ ইউনাইটেডের জাতীয় চেয়ারপারসন টেরি স্ট্রাডা সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যে উপস্থিতরা করতালি দেন।

৯/১১ হামলার বেশিরভাগ হামলাকারী সৌদি আরবের নাগরিক ছিলেন এবং পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন। তবে সৌদি কর্মকর্তারা বারবার হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন।

লন্ডনে বাকিংহাম প্যালেসে হয় স্মরণ অনুষ্ঠান। টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জও হামলায় নিহত সহকর্মীদের স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন করে। কানাডার গ্যান্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিট হোকস্ট্রা ওই ছোট শহরের প্রশংসা করেন, যা হামলার পর ৩৮টি বিমানের হাজার হাজার যাত্রীকে আশ্রয় দিয়েছিল।

মিলানে ইতালীয় ও মার্কিন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা টুইন টাওয়ারের ১১০ তলার স্মরণে গালফা টাওয়ারে ১১০ তলা ওঠানামা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত