'আমরা এত কাছাকাছি ছিলাম... আর এ জন্যই কষ্টটা আরও বেশি'

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অন্যতম কাণ্ডারি অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট করেছেন। পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আমরা এত কাছাকাছি ছিলাম... আর ঠিক সে কারণেই কষ্টটা এত বেশি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে আমরা যা যা পার করেছি, তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। ওরা আমাদের যা অনুভূতির মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছে, তা মোটেও সাধারণ কিছু নয়। আমাদের কষ্ট সইতে হয়েছে, বাধা এসেছে, কিন্তু আমরা তা অতিক্রম করেছি একসাথে। দয়া করে আমরা যেন এটি কখনো না ভুলি: একসাথে আমরা যে কারও চেয়ে শক্তিশালী।

কিছু মুহূর্ত আমাদের জীবনে এবং হৃদয়ে চিরদিনের জন্য খোদাই হয়ে যায়। ২০২২ সালের সেই দিনটার কথা আমি যেমন কখনো ভুলব না—যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মেডেল গলায় ঝুলিয়ে বুয়েনস আইরিসের রাস্তায় আমরা কাঁদছিলাম, হাসছিলাম আর নিজেদের মানুষের সাথে আনন্দ করছিলাম; ঠিক তেমনই এই বিশ্বকাপও আমাদের দুটি অবিস্মরণীয় দৃশ্য উপহার দিয়েছে, যা এই দলের সাথে আর্জেন্টিনার মানুষের একাত্মতাকে ফুটিয়ে তোলে এবং প্রতিটি আর্জেন্টাইনের আত্মাকে ছুঁয়ে যায়।

প্রথম দৃশ্যটি ছিল—বিশ্বকাপের রানার্স-আপ মেডেল নেওয়ার পর স্টেডিয়ামের আর্জেন্টাইনরা উন্মাদ হয়ে গান গাইতে শুরু করল। পরিবার, বন্ধু আর সমর্থকেরা যেন বাকি সব উদ্‌যাপনকে ফিকে করে দিল। আর দ্বিতীয় দৃশ্যটি ছিল বুয়েনস এইরেসের অভ্যর্থনা। বৃষ্টি আর কনকনে ঠান্ডাকে তুচ্ছ করে দেশের প্রতি ও এই জাতীয় দলের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে তারা রাজপথ ভাসিয়ে দিল—যার আলো কোনো কিছুই নেভাতে পারেনি। ক্ষমা করবেন এভাবে বলার জন্য, কিন্তু তারা সত্যিই পুরোপুরি পাগল, আর আমরা তাদের এই পাগলামিটা ভালোবাসি!

আমরা কাঁদছি, কারণ আমরা আর্জেন্টাইন এবং আমরা সবসময় জিততে চাই। কিন্তু কেঁদে নেওয়ার পর, চলুন আমরা ঘুরে দাঁড়াই, ঐক্যবদ্ধ হই এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাই। কারণ এই পথচলা থামবে না। এই দিনগুলোতে আমার মা আমাকে একটি জনপ্রিয় প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দিলেন- যে খেলায় প্রতিশোধের সুযোগ থাকে, তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

পরিশেষে, আমাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এই জাতীয় দলের নেপথ্যের নীরব কর্মী এবং সারাবছর সুখে-দুঃখে যারা আমাদের পাশে থাকেন—তাদের প্রতি আমার চিরন্তন কৃতজ্ঞতা। তারা আমাদের অস্তিত্বের অনেক বড় অংশ।

ভালোবাসার প্রতিটি বার্তা ও সমর্থনের জন্য প্রতিটি আর্জেন্টাইনকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই দীর্ঘ পথচলায় তোমরা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হয়তো তোমরা ধারণাও করতে পারবে না।

আর ধন্যবাদ তাদেরও, যারা অন্য দেশ থেকে আমাদের এই কষ্টে উপহাস করে বা আনন্দ পেয়ে বার্তা পাঠাচ্ছ। অনিচ্ছাকৃতভাবেই হলেও, তোমরা আমাদের প্রতিদিন আর্জেন্টাইন হিসেবে আরও বেশি গর্বিত বোধ করতে সাহায্য করছ।

ধন্যবাদ আর্জেন্টিনা!