কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ফেইসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন প্রেমের সূত্র ধরে অবশেষে বিয়ের দাবিতে প্রবাস ফেরত যুবকের বাড়িতে অনশনে বসছেন রংপুরের পীরগঞ্জের তরুণী ফেনসী আক্তার মিম। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কোমারডোগা গ্রামে।
বিষয়টি বুধবার (২২ জুলাই) নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. মামুন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোমারডোগা গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সাথে প্রায় ২ বছর পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁছগাছী ইউনিয়নের ইবরাহিমপুর গ্রামের মৃত জাহিদুল ইসলামের কন্যা ফেনসী আক্তার মিমের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে।
পরবর্তীতে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গাজীপুরের বাইপাস এলাকা ও কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বেশ কিছুদিন বসবাস করেন। এরই মাঝে এক বছর পূর্বে রাকিব চাকরির উদ্দেশে সৌদি আরব পাড়ি জমান। বিদেশে থাকা অবস্থায়ও তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল এবং দেশে এসে বিয়ে করে তাকে বাড়িতে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
গত ১৮ জুলাই রাকিব ছুটিতে বাংলাদেশে আসে সেদিনও তার প্রেমিকা ফেনসীর সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছানোর পর প্রেমিকা ফেনসিকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে প্রেমিকা ফেনসী কোন উপায় না পেয়ে মঙ্গলবার রাতে বিয়ের দাবিতে রাকিবের বাড়িতে এসে অবস্থান করে। রাকিব টের পেয়ে কৌশলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রেমিকা ফেনসীকে এক নজর দেখতে আশে-পাশের পুরুষ-মহিলাসহ উৎসুক জনতার ভীড়। রাকিবের বসত ঘরের সামনে চেয়ারে বসে অনশন করছে সেই প্রেমিকা। এ সময়ে সে সাংবাদিকদের জানান, রাকিবের সাথে আমার ফেইসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে সে আমাকে বার বার নক করতো সেখান থেকে আমাদের মাঝে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে সে আমাকে বিয়ে করবে বলে গাজীপুর বাইপাস এলাকায় প্রথমে বাসা ভাড়া নিয়ে দেয় এবং সে মাঝে মাঝে ওই বাসায় গিয়ে থাকতো।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে তার আরো কাছাকাছি নিয়ে এসে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাসা নিয়ে দেয়। আমি এরই তাকে তাকে বার বার বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে নানান তালবাহানা করে সৌদি আরব চলে যায়। সেখানে গিয়েও সে আমার সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। এরই মাঝে গত কয়েকদিন আগে রাকিব আমাকে জানিয়েই সৌদি আরব থেকে দেশে আসেন এবং আমাকে বিয়ে করবেন বলে আবারও প্রতিশ্রুতি দেয়। দেশে আসার দিনও আমার সাথে টানা কথা হয়। কিন্তু বাড়িতে আসার পর থেকে সে আমাকে এড়িয়ে চলছে এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, তাই আমি বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে আসতে হয়েছে। তার বাবা-মা ও ভাই-ভাবিও আমাদের সম্পর্কের বিষয়ে সব জানে এবং কুমিল্লায় থাকাকালীন তারা আমার বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়াও ছিল। কিন্তু কাল রাতে আমি এখানে আসার পর থেকে তারা আমার সাথে উল্টো আচরন করছে। রাকিব আমার সর্বস্ব শেষ করেছে এখন আমার বিয়ে করতে হলে তাকেই করতে হবে নতুবা আমি এখানে আত্মহত্যা করবো।
উজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. মামুন বলেন, মঙ্গলবার রাতে রংপুরের একটি মেয়ে আমাদের গ্রামের রাকিবের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করছে বলে খবর পেয়ে দেখতে আসি। মেয়ের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসা রাকিবের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে এবং বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিয়ে না করায় সে তার বাড়িতে চলে আসে। ঘটনার পর থেকে রাকিব পালিয়ে আছে। তাই তাকে না পাওয়ায় এই বিষয়ে আমরা সমাধানে যেতে পারছি না।
এ বিষয়ে রাকিবের বাবা আবুল হাসেম বলেন, মেয়েটি আমাদের বাড়িতে আসার পর থেকে আমরা বিব্রতবোধ করছি। আমার ছেলের সাথে নাকি তার প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। রাকিব বাড়িতে না থাকায় আমরা এর সত্যতা জানতে পারছি না।
এ বিষয়ে রাকিবের মোবাইল নাম্বারে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দিয়ে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন।