জুলাই আন্দোলন

শহীদ পরিবারের দুইজনকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী আজাদ

জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া দুই পরিবারের দুই সদস্যকে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তার নির্বাচনী এলাকা পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে দুইজন যোগদান করেন। তাদের একজন বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন মোছাঃ মনিজা এবং অপরজন দেবীগঞ্জ উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু ছাইদের ছেলে মামুন ইসলাম।

জানা গেছে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি উপজেলায় সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে একজন করে অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই সুযোগে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ তার নির্বাচনী এলাকার জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বশীল ও মানবিক নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপির নির্দেশনা ও সুপারিশের ভিত্তিতে মাড়েয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু ছাইদের ছেলে মামুন ইসলামকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

একই তথ্য নিশ্চিত করে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন মোছাঃ মনিজাকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত মামুন ইসলাম বলেন, আমার বাবা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ একজনকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। আজ ২৩ জুলাই প্রতিমন্ত্রী আমাকে তার পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। আমি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা যেমন ৭১-কে ধারণ করি, তেমনি ২০২৪-কেও ধারণ করি। জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগী পরিবারগুলোর প্রতি সম্মান জানানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার থেকেই বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার পরিদর্শন কক্ষে দুই শহীদ পরিবারের সদস্যকে নিয়োগের সুপারিশ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য যে সম্মানী (বেতন) পাই, সেখান থেকে জেলার ৬টি জুলাই যোদ্ধা পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা দিয়ে আসছি।