নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টস কর্মী সাদিয়া আক্তার পরকিয়া প্রেমিকের হাতে খুন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত গ্রেপ্তার হওয়া পরকিয়া প্রেমিক আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় গার্মেন্টস কর্মী সাদিয়াকে সে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিদর্শক মিন্টু কুমার।
তিনি জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে গার্মেন্টসকর্মী সাদিয়া আক্তার (২৩) হত্যা মামলায় জড়িত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানকে ২১ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত ক্যাপ, নিহত সাদিয়ার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের বিক্রি করা স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার করে পিবিআই। বুধবার নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধিরগঞ্জের আমলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই আরও জানায়, গত ১২ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ ভাড়া বাসায় খুন হন গার্মেন্টস কর্মী সাদিয়া। ঘটনার তদন্তে নিহত সাদিয়ার সাবেক স্বামী ইব্রাহিমকে ঘটনার ৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে আরও তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।
তদন্তে জানা যায়, সাদিয়া আক্তার তার স্বামী ইব্রাহিমের সঙ্গে বনাবনি না হওয়ায় তাকে তালাক দিয়ে পরকিয়া প্রেমিক আবদুর রাজ্জাক ওরফে আরিয়ানাকে স্বামী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে আব্দুর রাজ্জাককে বিয়ের জন্য চাপ দিলে এ নিয়ে তর্ক বাঁধে। এর সূত্র ধরে ১২ জুলাই সাদিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় রাজ্জাক।