দুর্নীতির অভিযোগ

চসিকের দুই প্রকৌশলীকে অন্য সিটি করপোরেশনে বদলি

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও তার স্ত্রী নির্বাহী প্রকৌশলী ফারজানা মুক্তাকে অন্য দুটি সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় এই বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-২ শাখা) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

বদলিকৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের শূন্যপদে (অথবা সমপদে) বদলি করা হয়েছে। এছাড়া চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনের শূন্যপদে (অথবা সমপদে) বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, তাদের আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। অন্যথায় ২৭ জুলাই থেকে তারা সরাসরি ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ বলে গণ্য হবেন। বদলিকৃত কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতনক্রম অনুযায়ী বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য সুবিধাদি নতুন কর্মস্থল থেকে প্রাপ্য হবেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চসিকের এই প্রকৌশলী দম্পতির বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৫ জুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষে মেহেদী চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি একটি লিখিত আবেদন জমা দেন।

ওই আবেদনে মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী ও ফারজানা মুক্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তাদের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বাইরে বদলি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

আবেদনে অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ফাইল বাণিজ্য ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও করা হয়। অতীতে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে আবেদনকারী দাবি করেন।