কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ৮ বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার দায়ের একমাত্র আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে (২৪) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ইয়াসির আরাফাত এই রায় দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বদিউল আলম সুজন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মফিজুল ইসলাম সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা উত্তর ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের ৩য় শ্রেণীর ওই ছাত্রী স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিল। পথে আসামি মফিজুল ইসলাম তাকে জোরপূর্বক রাস্তার পাশের একটি ধানের জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে মফিজুল তার মুখ ও গলা চেপে ধরে। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মফিজুল তার কান থেকে কানের দুল ছিঁড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
নৃশংস এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর দিনই ৩০ এপ্রিল অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত মফিজুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তৎকালীন র্যাব অধিনায়ক তানভীর মাহমুদ পাশা সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়ে আইনজীবী বদিউল আলম বলেন, এই নির্মম ও নৃশংস ঘটনার সঠিক রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কমাতে বিচার কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে এবং অপরাধের প্রবণতা কমবে।