হাতিয়ায় পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কৃষকের সংবাদ সম্মেলন

গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে শারীরিক নির্যাতন, লুটপাট ও বাড়ি থেকে দূরে নিয়ে বস্তায় ভরে প্রাননাশের প্রচেষ্টার অভিযোগে হাতিয়া থানায় মামলা করে  ভুক্তভোগী এক কৃষক। মামলার পর থেকে পরিবারের সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এ কারনে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলন প্রশাসনের নিকট জীবনের নিরাপত্তা দাবি করে ভুক্তভোগী কৃষক।

সংবাদ সম্মলনে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গত ১৩ জুলাই সোমবার গভীর রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ ঘরের টিনে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের বিকট শব্দে সবার ঘুম ভেঙে যায়। ঘরের দরজা খুলতেই ২০/ ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘরে ঢুকে পুরুষদেরকে কুপিয়ে আহত করে। নারীদেরকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর আহত পুরুষদের গলায় রশি বেঁধে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদেরকে বস্তায় ঢুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীর  মুক্তিযোদ্ধা  কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আহত কৃষক মো. এরশাদ। তিনি উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে।

লিখিত বক্তব্যে এরশাদ বলেন, ঐ রাতে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গ্রাম পুলিশ মুমূর্ষু অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ ঘটনায়  হাতিয়া থানায় মামলা করার পর থেকে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আজহার উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিলেন। সম্প্রতি তারা নিজ জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস শুরু করলে আজহার উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালান।

এরশাদের দাবি, হামলাকারীরা তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা ছাড়াও গভীর রাতে দুটি টমটম গাড়ি ভরে ঘরের আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরিবারের শিশুদের কান্না ও চিৎকারে আশপাশের লোকজন জেগে উঠলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০২৩  খ্রিস্টাব্দেও তাদের ওপর হামলা করে একই হামলাকারীরা। সেই ঘটনারও কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি। ফলে তারা বার বার হামলা করে  যাচ্ছে। 

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক এরশাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কৃষকের আরো অভিযোগ 

এ ঘটনায় ১৫ জুলাই  বুধবার হাতিয়া থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। মামলা করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাদী ও সাক্ষীদেরকে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে  হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, 'সোনাদিয়ার ঘটনায় করা মামলার কয়েকজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বাকি আসামিদেরকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে'।