আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম হিসেবে স্থান পেয়েছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশ এই তীব্র অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে বাংলাদেশকে চড়া দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
গ্যাসের উচ্চমূল্য এবং সরবরাহ সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ খাতের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ইলেকট্রিসিটি মিড-ইয়ার আপডেট ২০২৬ প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এলএনজি আমদানির ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশ সরাসরি সংকটে পড়েছে।
জ্বালানির সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উচ্চমূল্যের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবহারও কমেছে।
আইইএর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। এর ফলে বাংলাদেশকে আগের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এ পরিস্থিতির কারণে চলতি বছরও দেশের বিদ্যুতের চাহিদা চাপের মধ্যে থাকতে পারে।
অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। শিল্প উৎপাদনের সম্প্রসারণ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা এবং ডেটা সেন্টারের দ্রুত বিস্তার এ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে বিদ্যুতের চাহিদা ৩.৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৮ শতাংশ বাড়বে। ২০২৫ সালে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশ।
এর ফলে ২০২৭ সালে বিশ্বে মোট বিদ্যুৎ ব্যবহার বেড়ে ৩০ হাজার ৭০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২৮ হাজার ৬০০ টেরাওয়াট-ঘণ্টা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার পর এশিয়া ও ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২০২২-২৩ সালের জ্বালানি সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে এবং কয়েকটি দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। যদিও উত্তর আমেরিকা থেকে অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ বাজারের চাপ কিছুটা কমিয়েছে, তবু গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আইইএ।