বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের মাধ্যমে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরার নামে নির্বিচারে মাছের ডিম, রেনুপোনা ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কোড়ালিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন প্রান্তিক জেলে, মৎস্যজীবী ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
জেলেদের অভিযোগ, সাগরে অবৈধ কাঠের ট্রলিংয়ের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এসব ট্রলিংয়ের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম, রেনু পোনা ও ছোট মাছ আটকা পড়ছে। প্রয়োজনীয় আকারের মাছ রেখে ছোট মাছের বড় একটি অংশ আবার সাগরেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ মৎস্য সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার।
তারা বলেন, গভীর বঙ্গোপসাগরে অল্প সংখ্যক ট্রলিং জেলে অবৈধভাবে মাছ শিকার করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সাধারণ জেলের ওপর। ট্রলিং জেলেদের উৎপাতে সাধারণ জেলেরা সাগরে গিয়ে আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। দিনের পর দিন সাগরে মাছ শিকার করেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ মাছ না পেয়ে হতাশ হয়ে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে তাদের। এতে অনেক জেলেই ট্রলার পরিচালনা, জ্বালানি ও বরফের খরচ তুলতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কাঠের ট্রলিং চললেও তা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে অবৈধ ট্রলিংকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তাই অবিলম্বে অবৈধ কাঠের ট্রলিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, সাগরে ছোট মাছ ও রেণুপোনা নিধন বন্ধ, সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান মৎস্যজীবীসহ জেলে ও ব্যবসায়ীরা।