ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’র নিন্দা

ভারতে শিক্ষার্থীদের রাজপথের আন্দোলনের প্রতি সংহতি এবং রাজপথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সোনম ওয়াংচুকের ওপর ফ্যাসিবাদী আক্রমণ এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি।   

এতে বলা হয়, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং এর ফলে এই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ২০ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় ভারতের যুবসমাজ ফুঁসে ওঠে। এই প্রেক্ষিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা আয়োজনে জবাবদিহিতার দাবি জানিয়ে দিল্লীর যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন ভারতের পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। এক পর্যায়ে তিনি অনশন শুরু করেন। এক পর্যায়ে দিল্লী পুলিশ জোরপূর্বক সোনম ওয়াংচুককে যন্তর-মন্তর হতে উঠিয়ে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে এবং অনশন ভাঙানোর চেষ্টা চালায়।

এদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০ জুলাই ভারতীয় সংসদ অভিমুখে যাত্রা করে ককরোচ জনতা পার্টি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা সংসদের কাছাকাছি যাওয়া মাত্র পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে সংসদ সব দিক দিয়ে ঘিরে ফেলে এবং ছাত্রজনতা ব্যারিকেডের কাছে গেলে তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এসময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেক ছাত্র মারাত্মকভাবে আহত হন। পরবর্তীতে তারা পুনরায় যন্তর-মন্তরে সংগঠিত হন।

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে করে একটি শাসনব্যবস্থা যখন নিজের নাগরিকদের শিক্ষার অধিকার ও ন্যূনতম জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় এবং অধিকারকামী তরুণদের রাজপথে পেটাতে পুলিশ নামিয়ে দেয়, তখন তা আর গণতান্ত্রিক থাকে না, বরং স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করে।

বাংলাদেশ থেকে আমরা বিশ্বাস করি, সীমানা দিয়ে নিপীড়ন ও নিপীড়িতের সম্পর্ককে আলাদা করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি কোণে যেখানেই মৌলিক মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা শৃঙ্খলিত হবে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমাদের রাজনৈতিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।