ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন চীনের

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমাতে দ্রুত পুনরায় আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যেই ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের কথা বলেছে চীন। গত শুক্রবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে আলাদা আলোচনায় বসেন চীন ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই পার্শ্ব বৈঠকে চলমান পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, এক মাসেরও বেশি আগে ওয়াশিংটন-তেহরান স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ছিল বিভিন্ন পক্ষের মধ্যস্থতার গুরুত্বপূর্ণ ফল। সংলাপের মাধ্যমে অর্জিত অগ্রগতি পরিত্যাগ করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, আলোচনার দরজা একবার খুললে তা বন্ধ করা উচিত নয় এবং শান্তির আশা থাকলে তা কখনো ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীনের দৃঢ় সমর্থনের কথা বৈঠকে তুলে ধরে পাকিস্তানসহ নানা পক্ষের মধ্যস্থতা সমর্থন এবং হরমুজ প্রণালিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানান ওয়াং ই। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরানের আগ্রহ অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি রক্ষা ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এদিকে, প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে পথ খুঁজছে পাকিস্তান। চীনের উদ্যোগে নতুন করে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে পাকিস্তানের তিনটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির ইসলামাবাদ সফরের সময় এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। এটি ছিল দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তার দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোমেনি পাকিস্তানের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে তিনটি সূত্রই বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পথে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি এখন আরও জটিল। চলতি সপ্তাহেই ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌঅবরোধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে সৌদি আরব। সৌদির আর্থিক সহায়তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরশীল পাকিস্তান হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিলে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দূরত্ব তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পাকিস্তান চীনেরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার। সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে চীন সফরের সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সে দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধ চলমান এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় চীনের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে লোহিত সাগরে বিঘœ ঘটলে বেইজিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ঝুঁকিতে পড়বে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান ও অন্য পক্ষগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বেইজিং। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছে তারা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রধান ক্রেতা। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, চিপ তৈরির সরঞ্জাম ও স্যাটেলাইট নেভিগেশন-ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের নিরাপত্তা সক্ষমতায় সহায়তা বাড়িয়েছে চীন। যদিও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেইজিং প্রকাশ্যে কোনো সামরিক সহায়তা দেয়নি।