কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলা, নিহত এক নাবিক

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, এ হামলায় জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। 

ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার ব্যবহৃত ইরানি নকশার ড্রোন মোকাবিলা করে আসছে কিয়েভ। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলার মুখে পড়া দেশগুলোকেও ড্রোন প্রতিরোধে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন।

ইরান অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চাইছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, বৈঠকে হামলাকে 'শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক' বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় তেহরান।

এদিকে, একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা গোয়েন্দা তথ্য ইরানের কাছে সরবরাহ করছে, যাতে তেহরান ওই অঞ্চলে হামলা পরিচালনা করতে পারে।

এর আগে জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইউক্রেন লক্ষ্য করেছে যে রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি চালাচ্ছে। তার দাবি, ওই স্যাটেলাইট চিত্র পরে ইরানের হাতে পৌঁছাচ্ছে।

জেলেনস্কির ভাষ্য, 'এসব স্থাপনার ওপর রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি এবং ইরানের হামলার মধ্যে স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। হামলার আগে প্রস্তুতি, হামলার সময় এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন সব ক্ষেত্রেই এই তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।' 

তিনি আরও জানান, ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারির আওতায় ছিল চারটি বিমানঘাঁটি যার মধ্যে দুটি বাহরাইনে, একটি জর্ডানে এবং একটি কুয়েতে অবস্থিত।