টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ভারতের নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ছেড়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীরা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি সরকার মেনে নেওয়ার ঘোষণার পর শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকেই বিক্ষোভস্থল খালি হতে থাকে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, এবার বাড়ি ফিরে আবার পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবেন।
ইউপিএসসি পরীক্ষার্থী বিদ্যাভূষণ কুমার বলেন, আন্দোলনে যোগ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। গত ২০ জুন থেকে তিনি যন্তর মন্তরের একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন। এর আগে বিহারের একটি নিয়োগ পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের কারণে বাতিল হওয়ায় তাঁর দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও অর্থ দুটিই নষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে রাস্তায় কাটানো দিনগুলো বৃথা যায়নি।’
উত্তর প্রদেশের নিট পরীক্ষার্থী দেবাশীষ জানান, প্রথম পরীক্ষায় ভালো ফলের আশা থাকলেও পুনঃপরীক্ষায় অনেক কম নম্বর পান। পরিবারের উৎসাহেই তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে তিনি আন্দোলনের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এবার বাড়ি ফিরে আবার নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবেন।
শুধু পরীক্ষার্থীরাই নন, আন্দোলনে সংহতি জানাতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যন্তর মন্তরে এসেছিলেন। কেরালার ৭৬ বছর বয়সী অজিথা কে বলেন, আন্দোলনের উদ্দীপনা অনুভব করতেই তিনি সেখানে এসেছিলেন। গুরগাঁওয়ের গৃহিণী মালিকা ১১ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে বিক্ষোভস্থলে এসে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার লড়াই।
আন্দোলনে আহত হয়েও ফের মঞ্চ নির্মাণের কাজে যোগ দেন মোহাম্মদ নাভেদ খান। অন্যদিকে নিট পরীক্ষার্থী কৃষ্ণ বিশ্বাস স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসাশিবিরে আহতদের সেবা দিয়েছেন। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পিএইচডি গবেষক ও এসএফআই নেতা সুরজ এলামন বলেন, এ আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে ছাত্রসমাজ চাইলে পরিবর্তন আনতে পারে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তবে সন্ধ্যার পর স্বেচ্ছাসেবীরা লাউডস্পিকারে সবাইকে বিক্ষোভস্থল ছাড়ার আহ্বান জানান। কাঁধে ব্যাগ, গুটিয়ে রাখা বিছানা, হাতে প্ল্যাকার্ড ও পতাকা নিয়ে সারিবদ্ধভাবে যন্তর মন্তর ছাড়তে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের। একই সঙ্গে স্বাভাবিক হয় মেট্রো চলাচল, খুলে দেওয়া হয় সড়ক এবং নিরাপত্তাকর্মীরাও এলাকা ত্যাগ করেন।