ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নিয়ে রোমাঞ্চিত মিরাজ

রাজনৈতিক ও আনুষঙ্গিক নানা জটিলতায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে ভারত সিরিজ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে প্রতিবেশী দেশটির। ঘরের মাঠে এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজকে সামনে রেখে এখন থেকেই তাই দারুণ রোমাঞ্চিত বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ে সফর শেষে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) গল গ্যালান্টসের জার্সিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মিরাজ। তবে মাঠের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়েও তার ভাবনায় এখন বড় হয়ে উঠেছে আসন্ন ভারত সিরিজ। ভারতীয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘রেভ স্পোর্টস’-কে দেওয়া সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিরিজ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা খোলামেলা জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকারে ভারত সফর প্রসঙ্গে মিরাজ বলেন, ‘সিরিজটি নিয়ে আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত। ভারত যদি আসে, তবে তা আমাদের দেশের জন্য একটি দারুণ উপলক্ষ হবে। কারণ, দীর্ঘ দিন ধরে তাদের বিপক্ষে আমাদের কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলা হয়নি। ভারত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দল, এবং আমরা জানি সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ঘরের কন্ডিশনে নিজেদের সেরাটা দিতেই আমরা সবচেয়ে বেশি ফোকাস করব।’ 

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নেতৃত্ব ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে মিরাজ তুলে ধরেন দলের উন্নতির চিত্র। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়সহ বেশ কিছুদিন ধরে দল দারুণ ছন্দে রয়েছে বলে জানান তিনি। চাপের মুহূর্তগুলোতে দল এখন অনেক ভালো সামলে উঠছে বলে মনে করেন বাংলাদেশের এই অধিনায়ক। সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় প্রস্তুতি ও প্রতিদিন উন্নতির ধারা ধরে রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

তবে এই প্রসঙ্গে উঠে আসে ভারতের মাটিতে সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুর্ভাগ্যের স্মৃতিও। রাজনৈতিক জটিলতার কারণে সেই আসরে অংশগ্রহণ না করার আক্ষেপ প্রকাশ করে মিরাজ বলেন, ‘সব ক্রিকেটারেরই বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন থাকে। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রাও সেই সুযোগ চেয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি, যা সবাই জানে।’

ভারতের বিপক্ষে ২০২২ সালের সেই অবিস্মরণীয় জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে নস্টালজিক হয়ে পড়েন মিরাজ। মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে গড়া সেই ম্যাচ জেতানো জুটির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সেটা আমার জীবনের ভীষণ বিশেষ এক মুহূর্ত ছিল। আমরা যখন ছয় উইকেট হারিয়ে ফেললাম, তখন আমি বেশি কিছু ভাবিনি। কেবল ইতিবাচক থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বল ধরে ধরে খেলার চেষ্টা করেছি। আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম, আর সেটিই এক স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে রইল। ওই মুহূর্তটি আমি কখনো ভুলব না।’

বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে মৌখিক আলোচনার পর আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত মিললেই চূড়ান্ত হবে এই সিরিজের সূচি। সেটি সামনে রেখে ঘরের চেনা কন্ডিশনে বিশ্বমানের এই দলকে মোকাবিলা করার জন্য মিরাজ ও তার দল যে মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত, তা তার কথাতেই স্পষ্ট।