যে সমঝোতায় পদত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের আগে দেশে নিরাপদে চলাচল ও বাধাহীনভাবে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস পেয়েছেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগে ভবিষ্যতে মামলা হবে না-এমন কোনো নিশ্চয়তা সরকার দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। যদিও দায়িত্ব পালনকালে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে যে দায়মুক্তি রয়েছে, তা তিনি পাবেন।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত এই সাবেক রাষ্ট্রপতি দেশে থাকলে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে বিভিন্ন জটিলতায় পড়তে পারেন। এ কারণে তাঁর দ্রুত বিদেশে চলে যাওয়াকে নিরাপদ মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। 

পদত্যাগের পর শুক্রবার গণমাধ্যমকে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে তিনি বিদেশে যাবেন। এক্ষেত্রে তাঁর গন্তব্য ব্যাংকক কিংবা সিঙ্গাপুর।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন শীর্ষ নেতাও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি আগেই জানতেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক নেতা বলেন, রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের দাবি ছিল। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় বিএনপি তাঁকে আর পদে রাখতে চায়নি। তাই সম্মানজনকভাবে বিদায় দিয়ে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্নে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি জবাব না দিয়ে বলেন, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।

সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের পরও ভিভিআইপি প্রটোকল থাকলেও তাঁর বাসভবন ঘিরে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেও তাঁর বিদেশযাত্রাকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশান-১-এর ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর হোল্ডিংয়ের ‘গ্রিন ভিলা’ ভবনের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে উঠেছেন।