চুপ্পুকে বিএনপি সেইফ এক্সিট দিতে চায়: আখতার হোসেন

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ সমঝোতার অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদে বহাল রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রশক্তির আয়োজনে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক ফটো প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ২০২৪ সালের আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়।

আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তী সময়েও নানা ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, লন্ডনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির যোগাযোগ ছিল।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ব্যাংক দখলের অভিযোগ তুলে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, এসব কারণে তিনি রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন। পাশাপাশি শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পরস্পরবিরোধী বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি।

রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার এগোয়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করে গণভোটের ম্যান্ডেট উপেক্ষা করেছে।

ক্যাম্পাস রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন, যা ইতিবাচক। তবে কিছু গোষ্ঠী এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ছাত্রলীগের মতো করে কোনো সংগঠনকে আর ক্যাম্পাস বা আবাসিক হল দখল করতে দেওয়া হবে না। জাতীয় ছাত্রশক্তি কখনো হল দখল করবে না এবং কেউ এমন চেষ্টা করলে তারা প্রতিবাদ করবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইবি শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীন। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত