ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে মসজিদ নির্মাণের নামে ‘দখলের পাঁয়তারা’ চালানো একটি স্থাপনাও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কর্মকর্তারা জানান, বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পারিচালনা করা হয়। এক্ষেত্রে অন্য কোনো কিছু বিবেচনা নেওয়া সুযোগ নেই।
ডিএসসিসি বলছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি মসজিদ থাকার পরও সম্প্রতি রাজিব শাহ নামের একজন ব্যক্তির নেতৃত্বে আরেকটি ‘মসজিদ নির্মাণের নামে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একাংশ দখলের পাঁয়তারা’ চালানো হচ্ছিলো।
সেখানে ইট, কাঠ ও বাঁশের খুঁটি গেড়ে ত্রিপলের ছাউনিও টানানো হয়। এসবের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
সরকারি ওই নোটিশে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কিছু বহিরাগত অসাধু ভবঘুরে ও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মন্দিরের গেট বরাবর কিছু অবৈধ দোকানপাট বসিয়েছে এবং উদ্যানের এম্পিথিয়েটার সংলগ্ন কিছু স্থান জুড়ে অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের নামে উদ্যানের জায়গা দখল করে দিনরাত অবস্থান করছেন।
প্রকল্পের আওতাধীন একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ উদ্যানে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই বহিরাগতরা অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণ করে নিয়মিত অবস্থান করছেন বলে সর্বসাধারণ মনে করছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, দখলেন চেষ্টা চালানো ব্যক্তিদের বারবার ওই স্থান ছেড়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হলেও যায়নি। উল্টো হুমকি-ধমকি দেখানোসহ গণপূর্ত উপ-বিভাগের কর্মচারী ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ‘রূঢ় আচরণ করছেন’।
এমন পরিস্থিতিতে রবিবার অভিযান চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকার অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।