বরিশালে নতুন সিভিল সার্জনকে যোগদানে বাধা, কার্যালয়ে তালা 

বরিশালে নবপদায়নকৃত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে তার নিজ কর্মস্থলে যোগদানে বাধা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ‘সচেতন নাগরিক কমিটি’ ও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা সিভিল সার্জনের দপ্তরের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে তিনি নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্দোলনকারীদের বাধার কারণে নতুন সিভিল সার্জন কর্মস্থলে যোগ দিতে ব্যর্থ হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সম্প্রতি ডা. মনিরুজ্জামানকে বরিশাল জেলার নতুন সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দুপুর নাগাদ আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে সিভিল সার্জনের কক্ষে তালা মেরে দেয়।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার নবগঠিত আংশিক কমিটির সভাপতি সাব্বির হোসেন সোহাগ ও তার অনুসারীরা। উল্লেখ্য, সাব্বির হোসেন ইতিপূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাব্বির হোসেন সোহাগ দাবি করেন, ডা. মনিরুজ্জামান একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও শাস্তিপাপ্ত কর্মকর্তা। দুর্নীতির কারণে ২০২৫ সালে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জনগণ তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বাধ্য হয়ে তাঁকে ওএসডি করে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিভিল সার্জন পদে নিয়োগ দেওয়া আপামর ছাত্র-জনতার সঙ্গে গাদ্দারি করার সামিল।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বাস্থ্য খাতে যে সংস্কার ও উন্নতি সূচিত হয়েছে, এমন নিয়োগ তা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। কোনো অবস্থাতেই একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব নিতে দেওয়া হবে না।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমান হাকিম পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, বিএম কলেজের এক শিক্ষার্থী আমাকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করে। আমি সাথে সাথে সরকারি দপ্তরে তালা না দেওয়ার জন্য নিষেধ করি এবং শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে পরামর্শ দিই। লিখিত আবেদন পেলে আমরা তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করব।

তালা মারার ঘটনার সময় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন নবাগত সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান। বিষয়টিতে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সংক্ষেপে বলেন, এটি একটি দাপ্তরিক (অফিসিয়াল) বিষয়। এ নিয়ে এখানে কিছু বলব না, নিজ কার্যালয়ে বসেই কথা বলব।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন পদে পদায়ন করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হওয়ার আগে তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই দিনের অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুর-এ-এলাহিকে ওএসডি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বদলি করা হয়।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনে নিয়োগ কেন্দ্রিক অসন্তোষের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ৫ জুলাই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এস.এম. মনিরুজ্জামান শাহীনকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে পদায়ন করা হয় এবং ৬ জুলাই তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন। কিন্তু ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ১২ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাঁর নিয়োগ আদেশ বাতিল করতে বাধ্য হয়।