রবীন্দ্র বিবিদ্যালয়ের অভিযাত্রা

জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার এক দশক

ভোরের স্নিগ্ধ আলো যখন শাহজাদপুরের কুঠিবাড়ির আঙিনায় নেমে আসে, রবীন্দ্রসংগীতের আবহে তখনো যেন বাতাসে ভেসে বেড়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পদচিহ্ন। এই মাটির পথ ধরে তিনি হেঁটেছেন, এই জনপদের মানুষ, প্রকৃতি ও জীবন থেকে আহরণ করেছেন তার সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের অনন্ত প্রেরণা। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে সেই একই জনপদে দাঁড়িয়ে জ্ঞানের আরেকটি অভিযাত্রার সাক্ষী হচ্ছে বাংলাদেশ। বিকবির স্মৃতিধন্য শাহজাদপুরেই দশ বছর পূর্ণ করল রবীন্দ্র বিবিদ্যালয়। রবীন্দ্র বিবিদ্যালয়ের জন্ম শুধু আরেকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধকে একসূত্রে গেঁথে ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যয়ে।

মাত্র এক দশক কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় নয়। তবু এই স্বল্প সময়েই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণের পথে এগিয়েছে। সীমিত অবকাঠামো, নানামুখী চ্যালেঞ্জ এবং নবীন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টি একদিকে যেমন নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ভিত্তি গড়ে তুলেছে, অন্যদিকে রবীন্দ্রচেতনা, সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াসও অব্যাহত রেখেছে। দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ক্ষণে ফিরে দেখা যাক- কেমন ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মের ইতিহাস, কী অর্জন করেছে গত এক দশকে, কোন কোন চ্যালেঞ্জ এখনো সামনে রয়েছে এবং আগামী দশকে কোন স্বপ্নকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় রবীন্দ্র বিবিদ্যালয়।

যাত্রা শুরু

বিকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিবিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই জাতীয় সংসদে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আইন, ২০১৬’ পাসের মাধ্যমে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে বিবিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে তিনটি বিভাগে ১১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে চারটি অনুষদের অধীনে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ম্যানেজমেন্ট এবং সংগীত বিভাগে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী এবং দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দুটি আবাসিক হল, একটি আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব, উন্নতমানের পাঠাগার, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, স্টুডিও থিয়েটার, স্মার্ট ক্লাসরুম ও নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা। এই বিবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বিকবির মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা, সৃজনশীলতা ও মুক্তচিন্তার দর্শনকে ধারণ করে একটি আধুনিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র গড়ে তোলা। বিবিদ্যালয়ের প্রতিটি আয়োজনেই রবীন্দ্রচেতনার প্রতিফলন ঘটে।

এক দশকের অর্জন

এই এক দশকে গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি ইতিবাচক ধারা তৈরি করেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে নিয়মিত গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন এবং দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৩০০টির বেশি গবেষণাপত্র ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যা একটি নবীন বিবিদ্যালয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন। গবেষণা প্রকল্প, কর্মশালা, সেমিনার এবং একাডেমিক সম্মেলনের মাধ্যমে গবেষণার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনটি ব্যাচ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে। অনেক শিক্ষার্থী আজ সরকারি চাকরি, ব্যাংক, উন্নয়ন সংস্থা ও উচ্চশিক্ষায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছেন।

যেখানে রবীন্দ্র বিবিদ্যালয় অনন্য

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে স্বতন্ত্র অর্জন হলো এর সাংস্কৃতিক পরিচয়। বাংলাদেশের একমাত্র পাবলিক বিবিদ্যালয় হিসেবে, যার নাম বিকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে, প্রতিষ্ঠানটি রবীন্দ্রচর্চাকে একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন মাত্রা দিয়েছে। রবীন্দ্রজয়ন্তী, সাহিত্য সম্মেলন, সংগীতানুষ্ঠান, নাট্যোৎসব, গবেষণা সেমিনার এবং সাংস্কৃতিক উৎসবের মাধ্যমে বিবিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। এর ফলে শিক্ষা ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি স্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য বিবিদ্যালয়ের তুলনায় একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সংগীত ও নাট্যকলায় নৈপুণ্য প্রদর্শন করছে। ক্রীড়া ও শরীরবিদ্যায়ও পিছিয়ে নেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ

শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গড়ে তুলতেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মকা-ে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সম্পৃক্ততাকে শক্তিশালী করেছে। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা, সেশনজট কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসনিক উদ্যোগ একটি স্থিতিশীল প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে। তবে এই অর্জনগুলোর মূল্যায়ন করতে হলে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এখনো একটি বিকাশমান বিশ্ববিদ্যালয়। পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণাগার, আন্তর্জাতিক কোলাবরেশন এবং গবেষণা অর্থায়নের মতো ক্ষেত্রগুলোতে আরও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কিন্তু গত দশ বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, সীমিত সম্পদ নিয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি শক্তিশালী একাডেমিক ভিত্তি নির্মাণে সফল হয়েছে। সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আগামী দশকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, উদ্ভাবন, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বহন করছে।

সম্ভাবনা অপার

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিশেষ শক্তি হলো এর ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান। শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, দর্শন, সংগীত এবং লোকসংস্কৃতি নিয়ে বিশেষায়িত গবেষণার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, নদীভাঙন, জলবায়ু পরিবর্তন, গ্রামীণ অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক রূপান্তর নিয়ে আন্তঃবিষয়ক গবেষণারও বিস্তর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রকে গবেষণার অগ্রাধিকার দেওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু জ্ঞান উৎপাদনেই নয়, জাতীয় নীতিনির্ধারণেও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। তবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক বিবিদ্যালয়ে পরিণত হতে হলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রয়োজন। গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, আধুনিক গবেষণাগার ও ডিজিটাল লাইব্রেরির সম্প্রসারণ, গবেষণায় স্নাতক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, বিদেশি গবেষকদের অংশগ্রহণ এবং উচ্চ মানসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফলকে সমাজ, শিল্প খাত এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে প্রয়োগের সক্ষমতাও গড়ে তুলতে হবে।

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য

প্রথম দশক ছিল ভিত্তি নির্মাণের। আগামী দশক হওয়া উচিত উৎকর্ষ, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিকীকরণের। একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজস্ব স্বকীয়তা অক্ষুন্ন রেখে বিমানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আগামী দশ বছরের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক ও আধুনিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। উন্নত শ্রেণিকক্ষ, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাগার, সমৃদ্ধ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার, শিক্ষার্থী আবাসন, সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স এবং ক্রীড়া সুবিধাসহ একটি প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস শিক্ষার মান উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় শুধু তার পাঠ্যক্রমে নয়, তার একাডেমিক পরিবেশেও প্রতিফলিত হয়। দ্বিতীয়ত, গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল শক্তিতে পরিণত করতে হবে। গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, গবেষকদের জন্য প্রণোদনা, উচ্চমানের আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা, কনফারেন্স ও সেমিনার আয়োজন, আন্তঃবিষয়ক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী ও চরাঞ্চল, গ্রামীণ অর্থনীতি, লোকসংস্কৃতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সৃজনশীল শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়ে বিশেষায়িত গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান উৎপাদনই করবে না, জাতীয় উন্নয়ন নীতিতেও কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। রবীন্দ্রচর্চার একটি আন্তর্জাতিক উৎকর্ষকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি। শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, দর্শন, সংগীত, শিক্ষা-ভাবনা এবং মানবতাবাদ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা গেলে দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি অনন্য একাডেমিক গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয় পরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করবে।

আন্তর্জাতিকীকরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ডিগ্রি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যৌথ গবেষণা প্রকল্প এবং বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে গবেষণার গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতাও বাড়বে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল হিউম্যানিটিজ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষণ-পদ্ধতিকে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় ভবন কিংবা অবকাঠামো দিয়ে নয়; বরং তার সৃষ্টি করা জ্ঞান, মানবিকতা এবং সমাজে রেখে যাওয়া প্রভাব দিয়ে। সেই বিচারে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দশক ছিল সম্ভাবনার ভিত্তি নির্মাণের সময়। আগামী দশক হবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পরীক্ষা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির; জ্ঞান যেথা মুক্ত’। এই প্রার্থনাই যেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী পথচলার অঙ্গীকার হয়ে ওঠে। এ বিশ্ববিদ্যালয় হোক এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে জ্ঞান হবে মুক্ত, গবেষণা হবে বিশ্বমানের, সংস্কৃতি হবে পরিচয়ের শক্তি এবং মানবিকতা হবে শিক্ষার মূল ভিত্তি। প্রথম দশকের অর্জনকে পাথেয় করে আগামী দিনের অভিযাত্রায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠুক বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার এক অনন্য বাতিঘর।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠাতা, বিকে স্কুল অব রিসার্চ