ভিনিসিয়ুস কি রিয়াল ছাড়ছেন!

তবে কি রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘ আট বছরের সোনালি অধ্যায়ের ইতি টানার মুখে দাঁড়িয়ে পড়লেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র? সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চলা নানা অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও নতুন সমীকরণের জেরে তার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন এখন ফুটবল পাড়ার সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। এই সুযোগে তাকে দলে ভেড়াতে ওত পেতে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।

ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে রিয়ালের এই দূরত্বের সূত্রপাত মূলত সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ের পর। আনচেলত্তির অধীনে দারুণ সফল হলেও পরবর্তী সময়ে শাবি আলোনসোর দায়িত্ব গ্রহণ এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকার আগমনে দলের আক্রমণে তৈরি হয়েছে ভিন্ন চিত্র। বিশেষ করে আলোনসোর সঙ্গে ভিনিসিয়ুসের সম্পর্কের টানাপড়েন সেই সময়ে বেশ প্রকাশ্যে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে তিন ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে না রাখা এবং এল ক্লাসিকোতে বদলি হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সরাসরি টানেলে চলে যাওয়ার ঘটনা দুই পক্ষের দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ওপর চলতি বছরের শুরু থেকে ঘরের মাঠে দর্শকদের দুয়ো শোনা এবং পারফরম্যান্সের চড়াই-উতরাই তার মানসিক দূরত্ব আরও তীব্র করেছে।

তবে সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে ডাগআউটে হোসে মরিনহোর আগমনকে কেন্দ্র করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক ম্যাচে বেনফিকার বিপক্ষে খেলার সময় প্রতিপক্ষের আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি মুখ ঢেকে তাকে বর্ণবাদী গালি দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন ভিনিসিয়ুস। পরে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় প্রেস্তিয়ানি নিষিদ্ধ হলেও, তৎকালীন বেনফিকা কোচ মরিনহো ম্যাচ শেষে ভিনিসিয়ুসকেই সরাসরি ‘উসকানিমূলক আচরণকারী’ বলে অভিযুক্ত করেছিলেন। অতীতে ঘটে যাওয়া সেই তিক্ত ঘটনার জের এবং বর্তমান রিয়াল ডাগআউটে যখন ফিরেছেন সেই মরিনহো, সেখানেই শুরু ভিনিসিয়ুসের মাদ্রিদ ছাড়ার গুঞ্জন।

এদিকে ভিনিসিয়ুসের চুক্তির পরিস্থিতিও রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও নতুন শর্ত নিয়ে দুপক্ষের আলোচনায় কোনো সমাধান আসেনি। বর্তমান চুক্তির শেষ ১২ মাসে পা রাখা এই তারকাকে নিয়ে ক্লাব যদি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তবে ফ্রি ট্রান্সফারে তাকে হারানোর বড় ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমে তার জন্য মোটা অঙ্কের লয়্যালটি বোনাস পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও ক্লাবটিকে চাপে ফেলবে।

এমন সম্ভাব্য কিছুর মধ্যে দিয়ে লাইপজিগ থেকে উদীয়মান আইভরিয়ান ফরোয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দেকে দলে টানতে মরিয়া লস ব্লাঙ্কোসরা। ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রথম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলেও দিওমান্দেকে ভেড়ানোর দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছে রিয়ালই। এই তরুণ ফরোয়ার্ড দলে এলে এমবাপ্পে, রদ্রিগো ও ভিনিসিয়ুসদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগে তীব্র প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। ইনজুরি ও অফফর্মের কারণে রদ্রিগোর ভবিষ্যৎ নিয়েও যেখানে গুঞ্জন রয়েছে, সেখানে ভিনিসিয়ুসের সম্ভাব্য বিদায় এবং সৌদি লিগের থেকে লোভনীয় প্রস্তাব সব মিলিয়ে রিয়ালের আক্রমণভাগে এক বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিতই দিচ্ছে।