পুরনোদের কুড়িয়ে টেস্ট দল

টানা ৪টি টেস্ট জিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ দল। তবে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে এই আত্মবিশ্বাসে কিছুটা হলেও চিড় ধরেছে। একমাত্র টেস্টে মাত্র আড়াই দিনে হারের পর নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর প্রভাব বেশ ভালোভাবেই পড়েছে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে। একে তো জিম্বাবুয়ের কাছে নাস্তানাবুদ, এর মধ্যে আবার চোটের মিছিল। মূল দলের ৩ ক্রিকেটার যে অস্ট্রেলিয়া সফরে অনিশ্চিত, সেটা আগেই জানায় বিসিবি। এজন্য অজিদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ঘোষণা করা ১৫ সদস্যের দলে এই ৩ ক্রিকেটার ছাড়াও একাধিক পরিবর্তন এনেছেন নির্বাচকরা। দলে আছে অনেক চমক।

চোটে পড়া ৩ ক্রিকেটার হলেন নাহিদ রানা, লিটন দাস ও শরিফুল ইসলাম। এদের মধ্যে ডানহাতি পেসার নাহিদ লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। অস্ট্রেলিয়া সফর তো শেষই, সঙ্গে এরপর ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ হলে সেটাও মিস করতে পারেন তিনি। অবশ্য লিটন আর শরিফুলের দ্বিতীয় টেস্টে ফেরার সম্ভাবনা আছে। মূলত এজন্যই আপাতত এক ম্যাচের দল দিয়েছেন নির্বাচকরা। যদিও গতকাল দল ঘোষণার পর ৩ জন নির্বাচকের একজনও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দল নিয়ে নিজেদের ভাবনা জানাবেন তারা।

লিটন অবশ্য একই চোটের কারণে সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্ট দলেও ছিলেন না। তবে সে দলের ৫ জন এবার বাদ পড়েছেন।

মাহমুদুল হাসান জয় ও তাওহীদ হৃদয় সে ম্যাচের একাদশেও ছিলেন। তবে না খেলেই এবার সরে যেতে হলো মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, নাঈম হাসান ও রবিউল হককে। তাদের বাদ পড়ার বিষয়েও কোনো ব্যাখ্যা নির্বাচকদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ফোন বন্ধ করে রাখেন। আরেক নির্বাচক নাঈম ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন বলে জানান।

এদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের ফেরা অনুমেয়ই ছিল। জিম্বাবুয়ে সফরের টেস্ট দলে বিশ্রামে ছিলেন দুজন। এছাড়া ইবাদত হোসেন ছুটিতে থাকলেও পেসার সংকটের কারণে তাকে দ্রুত ইতালি থেকে ফিরতে বলেছেন নির্বাচকরা। এর বাইরে ডাক পেয়েছেন সৌম্য সরকার, জাকের আলী ও মুশফিক হাসান।

জয়ের বাজে ফর্মের কারণেই ৫ বছরের বেশি সময় পর টেস্টে ফিরলেন সৌম্য। সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ১৪ ইনিংসে এক সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে ৪৫ গড়ে ৬৩৩ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হন এই বাঁহাতি ব্যাটার। টেস্ট না হলেও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার।

জাকেরও অনেকদিন পর টেস্ট দলে ডাক পেলেন। সর্বশেষ খেলেছেন গত বছরের জুনে, শ্রীলঙ্কা সফরে। ফেরার জন্য মরিয়া চেষ্টা করেন তিনি। গত মাসে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে দুটি চার দিনের ম্যাচে তিন ইনিংস ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে তিনটি ফিফটি করেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটের সাদা বলে নিয়মিত রান করছেন তিনি। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর হয়ে ছয় ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি করেন। মূলত লিটন না থাকায় সুযোগ পেয়েছেন জাকের। ২০২৪ সালের অক্টোবের অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৬ টেস্টে ৩০.৬৩ গড়ে ৩৩৭ রান করেছেন তিনি।

এছাড়া ডানহাতি পেসার মুশফিক এর আগে টেস্ট দলে ডাক পেলেও অভিষেক হয়নি। আবার নাহিদ রানার চোট বড় সুযোগ এনে দিয়েছে তার সামনে।

সিরিজের প্রথম টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট, ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ২১ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়।

প্রথম টেস্টের দল

নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, অমিত হাসান, জাকের আলী, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও মুশফিক হাসান।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের এইচপি দল

জাকির হাসান, মাহফিজুল ইসলাম, ইফতিখার হোসেন ইফতি, শাহাদাত হোসেন দীপু, সামিউল বাশির রাতুল, মইন খান, রোহানাত দৌলা বর্ষণ, এনামুল হক, ইরফান শুক্কুর, মাহিদুল ইসলাম অংকন, ইকবাল হাসান ইমান, চৌধুরী রিজওয়ান, আবু হাশিম, হাবিবুর রহমান সোহান, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।