স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ঢাকার দুই সিটিতে আগে ভোট চায় জামায়াত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটিতে দলটির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। গতকাল রবিবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সরকারের প্রতি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে শুরু হোক। ভালো নির্বাচন করতে পারলে নির্বাচন নিয়ে গ্রাম পর্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হবে।

সরকারের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘এটা না করলে (ঢাকায় আগে নির্বাচন না দিলে) আমরা ধরে নেব আপনারা ভয় পাচ্ছেন এবং আপনারা কোনো ষড়যন্ত্রের মধ্যে আছেন, কারসাজির মধ্যে আছেন। দুই বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে (ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন)। এখনো ইউনিয়ন পরিষদের অনেকের মেয়াদ রয়ে গেছে, উপজেলার অনেকের মেয়াদ রয়ে গেছে। আগে ওখানে কেন? আগে ঢাকা থেকে শুরু করেন। সিটি করপোরেশনের মেয়াদ যেখানে যেখানে শেষ হয়েছে, ঢাকার দুটি, চট্টগ্রাম এগুলো আপনারা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে অন্যগুলোতে যান।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে অভিযোগ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, মানুষ ভোট দিয়ে যাকে নির্বাচিত করবে, তাকে মেনে নিতে হবে। তা না হলে সরকারকে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হতে পারে।

জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সুবিধা পেলেও বিএনপি ক্ষমতায় এসে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিকতা দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে বিএনপিকে এর রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।

সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ না দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজারে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা এই রাষ্ট্রপতির বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিদেশ পাঠাবেন না। দুর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের সুযোগ দিন। তার চিকিৎসার দরকার হলে দেশে পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

রাজধানীর নাগরিক সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহর চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নগরীতে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই, ফলে শহরটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রমাণ।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুর রহমান মূসা, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।