বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষিকার রিল ভাইরাল, তদন্তে শিক্ষা বিভাগ

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের একটি ফেসবুক রিল ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানের সঙ্গে তৈরি ওই রিলের মতো সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষও একই গানে ভিডিও প্রকাশ করছেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ধারণ করা ভিডিওটি সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বিভাগ।

এদিকে বিউটি রানী পালের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনেকেই একই গানে রিল তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করছেন। তাঁদের ভাষ্য, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সৃজনশীল প্রকাশের স্বাধীনতাও সম্মান পাওয়া উচিত। কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, বিষয়টিকে অশালীন হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিই মূল সমস্যা।

শিক্ষিকা দীপা মণ্ডলও একই গানের সঙ্গে ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘শিক্ষকদের নাচ, গান ও অভিনয়ে দক্ষ হতে বলা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের আনন্দের সঙ্গে পাঠদান করা যায়। তাঁর প্রশ্ন, একজন শিক্ষক শাড়ি পরে একটি সাধারণ ভিডিও করলে সেটি কীভাবে অশালীন হতে পারে।’

মাওলানা খলিলুর রহমান ভিন্নমত পোষন করে তার আইডিতে লেখেন, ‘চাকরিজীবীদের নৈতিক, চারিত্রিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্ব থাকে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিউটি রাণী পালের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ 

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে তাঁর চোখে আপত্তিকর কিছু পড়েনি। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো বিষয় আছে কি না, সেটিই তদন্তে দেখা হবে।

বিউটি রাণী পাল বলেন, একজন সেরা প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগে তিনি একজন মানুষ ও নারী। তারও ব্যক্তিগত জীবন আছে এবং নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন বিউটি রানী পাল। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। শিক্ষক হিসেবে এলাকায় তাঁর ব্যাপক সুনাম রয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিদ্যালয়ে আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা করানো, নাচের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের পড়া শেখানো, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের ভিডিও আপলোড করা আছে।