গন্ডারের প্রাকৃতিক বর্ম 

প্রাগৈতিহাসিক যুগের অদ্ভুত প্রাণী গন্ডার। সাধারণত গন্ডার মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। এরা শান্ত স্বভাবের এবং মানুষকে এড়িয়ে চলে। প্রকৃতির সঙ্গে টিকে থাকার জন্য গন্ডারের চামড়া প্রায় ২ ইঞ্চি পুরু। বন্য পরিবেশে ‘প্রাকৃতিক বর্ম’ হিসেবে কাজ করে এটি। ফলে শিকারি প্রাণী বা অন্য গন্ডারের আক্রমণ থেকে নিজেদের বাঁচায়। এদের চামড়া একাধিক স্তরে সজ্জিত ঘন কোলাজেন তন্তু দ্বারা তৈরি। ছোট ক্যালিবার ও কম গতিসম্পন্ন গুলি গন্ডারের পুরু চামড়ার নিচে, চর্বি ও মাংসপেশির কারণে ভেঙে যেতে পারে। কিন্তু কিছু হ্যান্ডগানের গুলি তা ভেদ করে। অদ্ভুত বিষয় হলো, গন্ডারের শিং হাড় নয়। মানুষের চুল ও নখের মতো কেরাটিনে  তৈরি। গণ্ডাররা তৃণভোজী। কিন্তু খাদ্যাভ্যাস নির্ভর করে, আবাসস্থলের ওপর। সুমাত্রান ও জাভান গণ্ডাররা ফলসহ ক্রান্তীয় উদ্ভিদ খায়। অন্যদিকে, কালো গণ্ডাররা প্রধানত লতাগুল্ম ও ঝোপঝাড় এবং ভারতীয় গণ্ডার ঘাস ও জলজ উদ্ভিদ উভয় খেয়ে বাঁচে। এরা দিন বা রাত, যেকোনো সময় সক্রিয় থাকতে পারে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তারা কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। যদি খুব গরম বা ঠান্ডা হয়, তবে পানির কাছাকাছি থাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাপুঙ্গুবে পাহাড়ে পাওয়া গেছে ৮০০ বছর পুরনো সোনার গন্ডার। যা রাজকীয় ক্ষমতার প্রতীক ছিল। এক সময় সুন্দরবনে একশৃঙ্গ গন্ডারের অবাধ বিচরণ ছিল, যা বিলুপ্ত। বর্তমানে বিশ্বে ৩০,০০০-এর কম গণ্ডার জীবিত রয়েছে। অথচ ৫০ মিলিয়ন বছর ধরে, পৃথিবীতে কোনো না  কোনোভাবে টিকে রয়েছে তারা। এরা সাধারণত ১০-৪৫ বছর বাঁচে।