বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে চলমান হামলা-পল্টা হামলা আপাতত থেমেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে বৈশ্বিক মানদ- ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। যা গত সপ্তাহে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। পরে কিছুটা কমলেও ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। পরে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ বন্ধ করলে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের মানদ- ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়।

জানা গেছে, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এক যোগে হামলা শুরু করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যায়। ইরানের শীর্ষ নেতাসহ সামরিক-বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। পরে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির আলোচনায় দীর্ঘ সময় যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ থাকলেও চলতি মাসে উভয়পক্ষের মধ্যে ফের যুদ্ধ শুরু হয়। গত শুক্রবার পর্যন্ত টানা ১৩ দিন প্রতি রাতে ইরানে বোমাবর্ষণ করে যুক্তরাষ্ট্র। যা গত শুক্রবার রাতে স্থগিত করে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে সতর্কভাবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির কারণে আপাতত তেলের দাম কমলেও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব- বিশ্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার আবারও বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত স্থগিত হওয়ায় বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির যে সমঝোতা হয়েছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতে তা কার্যত ভেঙে পড়েছিল। নতুন করে বড় ধরনের হামলা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা ফিরেছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামে। তবে জ্বালানি রপ্তানির প্রধান মধ্যম হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করা যাচ্ছে না।