তাড়াশে গৃহবধূকে হত্যা: শয়নকক্ষ থেকে হাত-পা-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বিষমডাঙ্গা গ্রামে তানিয়া ইসলাম (২২) নামে এক গৃহবধূর হাত, পা ও মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. শাহ পরাণের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত তানিয়া ইসলাম বিষমডাঙ্গা গ্রামের মো. ছোরহাব আলীর মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দা আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহ পরাণের সঙ্গে তানিয়া ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা তাড়াশ উপজেলার বিষমডাঙ্গা গ্রামে পৃথকভাবে বসবাস করছিলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে পারিবারিক কলহের জেরে শয়নকক্ষে তানিয়ার হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে তার মাথায় শীল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে অভিযুক্ত স্বামী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের পর থেকেই শাহ পরাণ বিভিন্ন অজুহাতে তানিয়ার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ঘটনার পর নিহতের বাবা মো. সোহরাব আলী বাদী হয়ে তাড়াশ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এবং ওসি (তদন্ত) শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, নিহতের হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেধে শীল দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।