জামিন মিললেই মুক্তি মিলবে দ্রুত, হাইকোর্টের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ

উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পরও সেই আদেশের কপি পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক সময় কারাবাস দীর্ঘায়িত হয় আসামিদের। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি ও আইনি জটিলতা নিরসনে এবার এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের জামিনের আদেশ যাতে দ্রুততম সময়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছে বা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই ঐতিহাসিক আদেশ দেন। বিচারপ্রার্থীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনার লক্ষ্যেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাইকোর্টের এই নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কমিটি গঠন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গঠিত এই কমিটিকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে প্রযুক্তি বা আধুনিক উপায়ে জামিনের আদেশ পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্ট বিভাগে দাখিল করার নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত।

আইনজীবীরা জানান, শুনানি চলাকালে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সুপ্রিম কোর্টের একটি ইতিবাচক উদাহরণ আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। ভারতে উচ্চ আদালতের জামিন আদেশ অনলাইনে দ্রুত পাঠানোর জন্য একটি বিশেষ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যার ফলে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তিতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ঘটে না। এই উদাহরণটি বিবেচনা করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগেও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দেশের সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন এবং নিম্ন আদালতের দুজন আইনজীবী যৌথভাবে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। তারা হচ্ছেন, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট সাব্বির আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান।

আবেদনকারী আইনজীবীদের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আইনি বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে আদালত জামিন আদেশের দ্রুত কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন।